আমদাবাদ/সুরাট, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): ভারতের রেল ইতিহাসে প্রথমবার ট্রেনে জীবন্ত হৃদ্যন্ত্র (লাইভ হার্ট) পরিবহনের নজির গড়ল ভারতীয় রেল। মুম্বই সেন্ট্রাল-গান্ধীনগর ক্যাপিটাল বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে সুরাট থেকে আমদাবাদে সফলভাবে হৃদ্যন্ত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যা পরে ইউ.এন. মেহতা ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে প্রতিস্থাপনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, ট্রেন নম্বর ২০৯০১-এ করে হৃদ্যন্ত্রটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই আমদাবাদে পৌঁছে যায়। এই জীবনরক্ষাকারী অভিযানে ভারতীয় রেল, গুজরাত পুলিশ, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ) এবং চিকিৎসক দল যৌথভাবে সমন্বয় করে কাজ করে।
বন্দে ভারত এক্সপ্রেসটি আমদাবাদ স্টেশনে পৌঁছনোর পর প্ল্যাটফর্ম নম্বর ১ থেকে ইউ.এন. মেহতা ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার পর্যন্ত আরপিএফ ও গুজরাত পুলিশের উদ্যোগে একটি বিশেষ ‘গ্রিন করিডর’ তৈরি করা হয়। এর ফলে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে হৃদ্যন্ত্রটি হাসপাতালে পৌঁছে প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়।
আমদাবাদের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার বেদ প্রকাশ বলেন, “ভারতীয় রেলের জন্য এটি অত্যন্ত গর্ব ও সন্তুষ্টির মুহূর্ত। বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মাধ্যমে সুরাট থেকে আমদাবাদে নিরাপদ ও নির্ধারিত সময়ে জীবন্ত হৃদ্যন্ত্র পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এমন অভিযানে প্রতিটি মুহূর্তই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় রেল, আরপিএফ, গুজরাত পুলিশ এবং চিকিৎসক দলের অসাধারণ সমন্বয়ের ফলেই এই মিশন সফল হয়েছে। মানুষের জীবন বাঁচানোর কাজে অংশ নেওয়া আমাদের কাছে শুধু দায়িত্ব নয়, মানবসেবার সর্বোচ্চ কর্তব্য।”
রেল প্রশাসনের মতে, ভন্দে ভারত এক্সপ্রেসের গতি, সময়নিষ্ঠা এবং নির্ভরযোগ্যতাই এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ। হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপনের জন্য নির্ধারিত সীমিত সময়ের মধ্যেই অঙ্গটি গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
এই অভিযানে ভারতীয় রেলের একাধিক বিভাগ, চিকিৎসক, অঙ্গ প্রতিস্থাপন সমন্বয়কারী, আরপিএফ, গুজরাত পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের নিবিড় সমন্বয়ের ফলেই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই জীবনরক্ষাকারী অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ভারতে এই প্রথম কোনও জীবন্ত হৃদ্যন্ত্র ট্রেনের মাধ্যমে প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হল। এর মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবায়ও ভারতীয় রেলের ভূমিকার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হল।
























