নয়াদিল্লি, ২৮ জুলাই (আইএএনএস): আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে সংখ্যালঘু ভোট। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোটের অঙ্ক কষতে গিয়ে মতাদর্শগতভাবে ভিন্ন বিরোধী দলগুলিও কৌশলগতভাবে একজোট হওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে সংখ্যালঘু ভোটে বিভাজন না ঘটে।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও কংগ্রেসের জোটের সাফল্যের পর ফের এসপি প্রধান অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলেছে যে, অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)-এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসিও ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে সমঝোতার আগ্রহ দেখিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী শিবিরের প্রধান লক্ষ্য হল সংখ্যালঘু ভোট যাতে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে না যায়। অতীতে বহুবার দেখা গিয়েছে, ত্রিমুখী বা বহুমুখী লড়াইয়ে বিরোধী ভোট বিভক্ত হওয়ায় বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছে।
অতীতে ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির একাংশ ওয়েইসিকে ‘ভোটকাটা’ বা বিজেপির পরোক্ষ সুবিধাভোগী বলে সমালোচনা করলেও, তিনি বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে বিরোধী জোটে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে সেই সময় বিরোধী দলগুলি তাঁর প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি বড় অংশ বিজেপিকে হারাতে সক্ষম বলে মনে করা শক্তিশালী বিরোধী প্রার্থীর পক্ষেই ভোট দিতে আগ্রহী হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত। অন্যদিকে, এআইএমআইএম নিজেদের নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উত্তরপ্রদেশে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ। ৪০৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে প্রায় ১১০টিতে সংখ্যালঘু ভোটারের হার ৩০ থেকে ৩৯ শতাংশ। আরও ৪৪টি আসনে এই হার ৪০ থেকে ৪৯ শতাংশ এবং প্রায় এক ডজন আসনে সংখ্যালঘুরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে প্রায় ১৬৫টি আসনে সংখ্যালঘু ভোটের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
তবে এই ধরনের জোট সবসময় সফল হয়নি। ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অখিলেশ যাদব ও রাহুল গান্ধীর জোটকে ‘ইউপি কে লড়কে’ হিসেবে প্রচার করা হলেও, সেই জোট ভরাডুবি করে এবং বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পরে সমাজবাদী পার্টি বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) সঙ্গে জোট করলেও তাতেও বিজেপির আধিপত্য ভাঙা যায়নি।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এসপি-কংগ্রেস জোট উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়। সমন্বিত প্রচার, আসন সমঝোতা এবং সংখ্যালঘু ভোটের পাশাপাশি অন্যান্য সামাজিক গোষ্ঠীর সমর্থন পাওয়ায় এসপি ৩৭টি আসন জিতে লোকসভায় তৃতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয় এবং কংগ্রেসও ঘুরে দাঁড়ায়।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের ভোটের সমীকরণ এক নয়। তবুও বিরোধী শিবিরের ধারণা, সংখ্যালঘু ভোটে ঐক্য বজায় রাখতে পারলে তাদের বৃহত্তর সামাজিক সমীকরণ কার্যকর হতে পারে।
আগামী বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে তাই উত্তরপ্রদেশে পরিচয়ভিত্তিক ভোটের সমীকরণ এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষ ঐক্য’-র রাজনীতি আরও জোরালো হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
–আইএএনএস



















