আগরতলা, ২৮ জুলাই: উত্তর ত্রিপুরার দাসদা ব্লকের সতনালা গ্রামের প্রগতিশীল কৃষক জ্যোৎস্না নামা সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ ও বহুমুখী আয়ের উৎস গড়ে তুলে তিনি এখন পরিবারের জন্য স্থায়ী ও লাভজনক জীবিকার ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছেন।
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে জ্যোৎস্না নামা দেও ভ্যালি ফার্মার্স প্রডিউসার কোম্পানি লিমিটেড-এর সদস্য হন। সংস্থা গ্রোয়িং সিড-এর উদ্যোগে পরিচালিত লাইভলিহুড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এলইডিপি)-এর আওতায় তিনি প্রাণিসম্পদভিত্তিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং নিয়মিত পরামর্শ পেয়ে তিনি চার কানি জমিতে একটি সমন্বিত কৃষি প্রকল্প গড়ে তোলেন।
তার এই কৃষি মডেলে রয়েছে হাঁস-মুরগি পালন, ছাগল পালন, দুগ্ধ উৎপাদন, মৎস্যচাষ, সবজি চাষ এবং ধান চাষ। কৃষির বিভিন্ন শাখাকে একত্রিত করার ফলে উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি আয়েরও নতুন পথ খুলেছে। বর্তমানে এই সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা থেকে তিনি বছরে প্রায় ২.৫ লক্ষ টাকা নিট লাভ করছেন।
জ্যোৎস্না নামার এই সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাজারের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করা গেলে গ্রামীণ কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।
স্থানীয় কৃষি মহলের মতে, জ্যোৎস্নার এই উদ্যোগ উত্তর ত্রিপুরাসহ রাজ্যের অন্যান্য কৃষকদের, বিশেষ করে মহিলা কৃষকদের, সমন্বিত ও বহুমুখী কৃষি পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করবে। এতে যেমন আয় বৃদ্ধি পাবে, তেমনি কৃষিক্ষেত্রে স্থায়িত্ব ও ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতাও বাড়বে।
কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ এবং ন্যাবার্ড-এর ৪৫তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ন্যাবার্ড ত্রিপুরা আঞ্চলিক কার্যালয় জ্যোৎস্না নামাকে সংবর্ধিত করে। তাঁর এই অর্জন রাজ্যের কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



















