কলকাতা, ২৮ জুলাই (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে মঙ্গলবার সকালে পরপর বিস্ফোরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরে জানা যায়, পুলিশের বাজেয়াপ্ত করা অবৈধ বাজির মজুত থেকেই এই বিস্ফোরণ ঘটে। তবে ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা গুরুতর আহতের খবর মেলেনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফাঁড়ির একটি ঘরে বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ অবৈধ বাজি রাখা ছিল। মঙ্গলবার ভোরে আচমকাই সেই বাজিতে আগুন লেগে যায়। এরপর একের পর এক বিস্ফোরণে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের জেরে ঘরটির ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং চারদিকে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা।
ফাঁড়িতে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বিস্ফোরণের পর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে কেউ আটকে পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়।
খবর পেয়ে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলার শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকেরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নিরাপত্তার স্বার্থে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত কয়েক দিনে বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ অবৈধ বাজি নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে এনে রাখা হয়েছিল। সেই বাজিতেই আগুন লাগার পর পরপর বিস্ফোরণ ঘটে, যা এলাকায় তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করে।
ঘটনার পর জনবহুল এলাকার মধ্যে অবস্থিত একটি পুলিশ ফাঁড়িতে এত বিপুল পরিমাণ বাজেয়াপ্ত বাজি মজুত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বাজিগুলি যদি নির্দিষ্ট নিরাপদ গুদামে সংরক্ষণ করা হতো, তাহলে এই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারত।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের আগস্টে বারাসত সংলগ্ন দত্তপুকুরে একটি অবৈধ বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনাকে ঘিরেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।



















