ঢাকা, ২৭ জুলাই (আইএএনএস): বাংলাদেশে পদত্যাগের মাত্র দু’দিনের মধ্যেই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান প্রসিকিউটরের দফতরে অভিযোগ জমা পড়েছে। একইসঙ্গে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বিরুদ্ধেও পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রবিবার বাংলাদেশ আজাদী পার্টি এবং রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম পৃথক অভিযোগ দায়ের করে। এছাড়া আজাদী পার্টি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধেও একটি অতিরিক্ত অভিযোগ জমা দেয়।
অভিযোগ জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আজাদী পার্টির আহ্বায়ক হাসিনুর রহমান দাবি করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত কথিত অপরাধের সময় দুই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি নীরব ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের এই নীরবতা ওই ঘটনাগুলির প্রতি নীরব সমর্থনেরই শামিল।
রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের অভিযোগে শাহাবুদ্দিনকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার “ঘনিষ্ঠ সহযোগী” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের আন্দোলন চলাকালীন সহিংসতার ঘটনায় তাঁর সম্ভাব্য ভূমিকার তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবাদপত্র ডেইলি স্টার-কে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাঁদের দফতরে দুটি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে একটি বাংলাদেশ আজাদী পার্টির এবং অন্যটি রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের। তিনি বলেন, অভিযোগগুলি তদন্তকারী সংস্থার কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের চলমান কড়া পদক্ষেপের মধ্যেই এই অভিযোগ দায়েরের ঘটনা ঘটল।
গত সপ্তাহে মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করা শাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও তিনি প্রায় দু’বছর আগেই পদত্যাগ করেন।
ডেইলি স্টার-কে শাহাবুদ্দিন জানিয়েছিলেন, স্বাস্থ্যগত কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তাঁর পদত্যাগের আগে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চলতি বছরের মে মাসে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সেই কথোপকথনের তথ্য জানার পর তাঁকে পদত্যাগের জন্য বলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যদিও বিএনপির এক শীর্ষ নেতা দাবি করেন, শুধুমাত্র ওই ফোনালাপই পদত্যাগের কারণ নয়; বিষয়টি আরও জটিল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে শাহাবুদ্দিনের পদে বহাল থাকা বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছিল।



















