কলকাতা, ২৭ জুলাই (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলার শিল্পনগরী দুর্গাপুরে অভিযান চালিয়ে মানবপাচারের অভিযোগে ব্যবসায়ী গুলাম রাজাকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। সোমবার তাঁর বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে আটক করা হয়।
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারের মুজফ্ফরপুরের বাসিন্দা গুলাম রাজা প্রায় তিন বছর আগে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে দুর্গাপুরে বসবাস শুরু করেন। দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট সংলগ্ন এলাকায় একটি বাড়ি কিনে তিনি সেখানে থাকতেন।
তদন্তে জানা গিয়েছে, রাজা একটি ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই সংস্থার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের বহু পরিযায়ী শ্রমিককে বিদেশে, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে পাঠানো হত।
তবে এনআইএ-র অভিযোগ, বিদেশে কর্মসংস্থানের আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে শ্রমিকদের জন্য জাল পাসপোর্ট তৈরি করা হত। পাশাপাশি তরুণীদের মানবপাচারের সঙ্গেও রাজা জড়িত ছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
সোমবার সকালে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এক মহিলা আধিকারিক-সহ ছয় সদস্যের এনআইএ দল তাঁর বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে। প্রথমে অভিযানের কারণ স্পষ্ট না হলেও, গ্রেফতারের পর মানবপাচারের অভিযোগ সামনে আসে।
তদন্তকারীদের দাবি, যেসব দেশে শ্রমিক পাঠানো হত, গুলাম রাজা নিজেও নিয়মিত সেই দেশগুলিতে যাতায়াত করতেন। সেই সূত্র ধরেই মানবপাচার চক্রের সঙ্গে তাঁর যোগের প্রমাণ মিলেছে বলে মনে করছে এনআইএ।
দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর রাজাকে মুখ ঢেকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায় এনআইএ। তাঁকে কলকাতার বিশেষ এনআইএ আদালতে পেশ করে হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে। তদন্তকারীরা তাঁর সহযোগীদের খুঁজে বের করতে জিজ্ঞাসাবাদ চালাবেন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভা কলকাতায় একটি পৃথক এনআইএ থানার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। বর্তমানে সল্টলেকে অবস্থিত এনআইএ-র পূর্বাঞ্চলীয় সদর দফতর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে সংস্থার সমস্ত তদন্ত পরিচালিত হয়। তবে রাজ্যে এনআইএ-র মামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পৃথক এনআইএ থানা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



















