ঢাকা, ২৭ জুলাই (আইএএনএস): বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ অভিযোগ করেছে, তাদের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিএসএল)-এর সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্বিচারে বহিষ্কার, গ্রেফতার এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে তাঁদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে দলটি।
রবিবার এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ জানায়, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের পর এবং শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক “অন্ধকার বাস্তবতা” তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী, সমর্থক এমনকি সংগঠনের সঙ্গে সামান্য সম্পর্ক থাকা শিক্ষার্থীদেরও “নতুন ব্যবস্থার শত্রু” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দলটির দাবি, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকেই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ শুরু হয়। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলি তাঁদের জন্য কার্যত “নিষিদ্ধ এলাকায়” পরিণত হয়েছে।
আওয়ামী লীগের বক্তব্য, “এটি বিচার নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নামে গোটা একটি প্রজন্মকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের প্রশংসা করা হলেও হাজার হাজার শিক্ষার্থী শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”
বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে দলটি দাবি করেছে, পরীক্ষায় অংশ নিতে বা ক্লাসে ফিরতে গিয়েও ছাত্রলীগ-ঘনিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এক ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর উদাহরণ তুলে ধরে আওয়ামী লীগের দাবি, পরীক্ষায় অংশ নিতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয়, পরে “সন্দেহজনক অভিযোগে” গ্রেফতার করে ২৭ দিন কারাগারে রাখা হয়। দেড় বছর পরও তিনি পড়াশোনায় ফিরতে পারেননি।
দলটির অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৪০৩ জন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে, যাঁদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০-র বেশি ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে এই সংখ্যা ২৮৯ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের বহিষ্কার ও সাময়িক বরখাস্তের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে দলটি।
আওয়ামী লীগের আরও অভিযোগ, কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা শাস্তিমূলক রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও বহু শিক্ষার্থী ভয়ে ক্যাম্পাসে ফিরতে পারছেন না। তাঁদের দাবি, ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশাসন কার্যত ছাত্রগোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে। এমনকি নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করলেও শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছে, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় এবং ক্যাম্পাসে না ফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দলটির অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়ে কার্যত “অনানুষ্ঠানিক বহিষ্কার” কার্যকর করছে। এর ফলে গণপিটুনির আশঙ্কা, পুলিশি হয়রানি ও শারীরিক হামলার ভয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেছে আওয়ামী লীগ।



















