গ্যাংটক, ২৩ জুলাই (আইএএনএস): দক্ষিণ সিকিমের সামারদুং এলাকায় নির্মীয়মাণ এনএইচপিসি তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২-এ পৌঁছেছে। এখনও টানেলের ভিতরে আটকে থাকা বাকি শ্রমিকদের সন্ধানে জোরকদমে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থা বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও বুধবার রাতভর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল। টানেলের ভিতরে অস্থিতিশীল ধ্বংসস্তূপ এবং সীমিত প্রবেশপথের মতো প্রতিকূলতার মধ্যেও উদ্ধারকর্মীরা আটকে পড়াদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
কর্মকর্তারা জানান, বুধবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ আসানসোলের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানে যোগ দেয়। অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বিশেষ সরঞ্জাম নিয়ে তারা উদ্ধারকাজে সহায়তা করছে।
জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবার কর্মীরা মধ্যরাত পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে উদ্ধার অভিযান চালান। এখনও পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থল থেকে ২২টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উদ্ধারকাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে অভিযান পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি উদ্ধারকাজ দ্রুততর করতে অতিরিক্ত ভারী যন্ত্রপাতি ও লজিস্টিক সহায়তাও মোতায়েন করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে সিকিম সরকার। পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত কর্মীদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এনএইচপিসির তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ টানেল ধসের এই দুর্ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে সিকিমের অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই ভারী যন্ত্রপাতি ও বিশেষ প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ একাধিক উদ্ধারকারী দল দিনরাত এক করে কাজ করছে। টানেলের ভিতরে আটকে থাকা সকলের সন্ধান না মেলা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।























