নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই (আইএএনএস): নীট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) বুধবার জানিয়েছে, কেন্দ্র যদি সত্যিই আলোচনায় আগ্রহী হয়, তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডাকেই যন্তর-মন্তরের আন্দোলনস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সোমবার ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির মধ্যে তিনি এবং দলের সদস্য আশুতোষ রাঙ্কা জে.পি. নাড্ডার বাসভবনে গিয়ে তিন দফা দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলেন।
আইএএনএস-কে সৌরভ দাস বলেন, “আজ আবার দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য জে.পি. নাড্ডা আমাদের ডেকেছেন। কিন্তু আমরা জানিয়ে দিয়েছি, আমরা আর তাঁর বাড়ি বা দফতরে যাব না। আগেরবার আমাদের চার ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয়েছিল। আমাদের সময়ও মূল্যবান। তাই আমরা বলেছি, তিনি যন্তর-মন্তরে আসুন, মানুষের মধ্যে এসে নিজের বক্তব্য রাখুন। সত্যিই যদি আমাদের দাবি মানার ইচ্ছা থাকে, তবেই আলোচনার অর্থ রয়েছে।”
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভের প্রসঙ্গে সৌরভ দাস বলেন, “এটি খুবই ইতিবাচক। লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানো দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তিনি যেভাবে প্রতিবাদ করেছেন, তাতে আমরা খুশি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের একটাই দাবি—সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। এই দাবিতে যে-ই পাশে দাঁড়াক, প্রতিবাদ, আদালত বা চিঠির মাধ্যমে—সবাইকে স্বাগত।”
২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করে সৌরভ দাস দাবি করেন, “গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এতটা পুলিশি বর্বরতা সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি। ছাত্রদের মাথায় লাঠি মারা হয়েছে, অনেকের মাথা ফেটেছে, পা ভেঙেছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “পুলিশ পেলেট গানও ব্যবহার করেছে, যার ফলে কয়েকজনের দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” যদিও এই দাবির কোনও স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
সৌরভ দাস বলেন, কিছু বিক্ষোভকারী আত্মরক্ষার্থে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও আন্দোলনে হিংসার কোনও স্থান নেই। “যাঁরা হিংসায় জড়াচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিক। কারণ এতে আন্দোলনের পরিবেশ নষ্ট হয় এবং মূল দাবি থেকে মানুষের নজর সরে যায়,” বলেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ বলেও চিহ্নিত করার চেষ্টা হয়েছে। তবে তাঁর দাবি, “দেশের যুবসমাজ বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন। অনেকেই হয়তো রাস্তায় নামতে পারছেন না, কিন্তু আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন, এমনকি আমাদের জন্য খাবারও পাঠাচ্ছেন।”
























