গুয়াহাটি, ২২ জুলাই (আইএএনএস): চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত অসমে প্রাক্-বর্ষা ও বর্ষাজনিত বন্যায় ২৫টি জেলায় মোট ৭ লক্ষ ২৭ হাজার ৫০৬ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে বুধবার জানালেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে।
এক্স-এ পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গোলপাড়া, কাছাড়, লখিমপুর, ধেমাজি, ডিব্রুগড়, যোরহাট, বিশ্বনাথ, চরাইদেও, নলবাড়ি, বজালি, চিরাং, কোকরাঝাড়, বঙ্গাইগাঁও, বাকসা, শিবসাগর, দরং, শোণিতপুর, তিনসুকিয়া, উদালগুড়ি, গোলাঘাট, নগাঁও, কার্বি আংলং, কামরূপ, কামরূপ মেট্রোপলিটন এবং হোজাই-সহ মোট ২৫টি জেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অসমের বন্যায় যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আশ্বস্ত করেছি, এই সংকটে তারা একা নয়। পুনর্বাসন ও জীবিকা পুনর্গঠনের প্রতিটি ধাপে রাজ্য সরকার তাদের পাশে রয়েছে।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ৭৪টি রাজস্ব চক্র এবং ১,৭০০টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ৯৫টি ত্রাণশিবিরে ১৮ হাজার ৫৭৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন। পাশাপাশি খাদ্য, পানীয় জল ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিতে ৪৬৯টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
চলতি মৌসুমে বন্যায় এখনও পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শিবসাগরে সর্বাধিক ১৪ জন, চরাইদেওতে ৬ জন, যোরহাটে ৫ জন, ধেমাজি ও গোলাঘাটে ২ জন করে এবং শোণিতপুর ও কার্বি আংলংয়ে ১ জন করে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ১৯ এপ্রিল কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলায় নগর বন্যায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
এছাড়াও ধেমাজি, চরাইদেও এবং কার্বি আংলং জেলায় একজন করে মোট তিনজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যায় ৪০১টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১,৮৪৮টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ১৮৫টি গবাদি পশু ও পোলট্রি প্রাণী ভেসে গিয়ে বা মারা গেছে। এর মধ্যে ১১৯টি বড় পশু, ৩১টি ছোট পশু এবং ৩৫টি পোলট্রি রয়েছে।
রাজ্য সরকার জেলা প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ, পুনর্বাসন এবং জরুরি পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী চরাইদেও জেলার একটি ত্রাণশিবিরও পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ত্রাণশিবিরের ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। তিনি জানান, শিবিরে চিকিৎসক দলসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিষেবা উপলব্ধ রয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সরকার সবসময় থাকবে।
























