নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই (আইএএনএস): জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করলেও, রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক স্বার্থ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাই বিরোধী জোটের ভঙ্গুর বাস্তবতাকে বারবার সামনে এনে দিচ্ছে। রাজধানী দিল্লিতে নীট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে চলা বিক্ষোভকে ঘিরে বিরোধীদের সাম্প্রতিক অবস্থান সেই দ্বৈত রাজনৈতিক বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করেছে।
নীট প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন, যা মূলত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র উদ্যোগে শুরু হয়েছিল, পরে বড় রাজনৈতিক রূপ নেয়। পুলিশি লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনার পর আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অন্যান্য কংগ্রেস নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন। সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব-সহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক নেতা তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।
পরে দিল্লি পুলিশ রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয় এবং আটক করে।
তবে দিল্লিতে বিরোধী ঐক্যের এই ছবি রাজ্য রাজনীতির বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের একসঙ্গে চলা রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা হলেও, তা আদর্শগত ঐক্যের প্রতিফলন নয় বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার কলকাতায় ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর বুধবার সংসদ চত্বরে নীট ইস্যুতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশে দেখা যায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর কংগ্রেস-সহ বিরোধী শিবিরের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা মেরামতের পথে তৃণমূল এগোচ্ছে বলেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
তবে পাঞ্জাবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে আম আদমি পার্টি (আপ) ও কংগ্রেস সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় দুই দলের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। দিল্লির আন্দোলনের মাঝেও ‘আপ’ নেতারা কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে জানিয়েছেন, এই আন্দোলন বিরোধী ঐক্যের নিদর্শন নয়, বরং জাতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাওয়ার রাজনৈতিক চেষ্টা।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর আম আদমি পার্টি ইন্ডিয়া জোট থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেয়। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর ডিএমকেও বিরোধী জোটের সক্রিয় সমন্বয় থেকে সরে আসে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লির আন্দোলনে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি জাতীয় স্তরে একটি বার্তা দিলেও, শেষ পর্যন্ত রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক সমীকরণই নির্ধারণ করবে ইন্ডিয়া জোট কতটা কার্যকর ও স্থায়ী হতে পারবে। উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির সমঝোতা যেমন রাজনৈতিক প্রয়োজন, তেমনই পাঞ্জাবে কংগ্রেস ও ‘আপ’-এর সংঘাত বিরোধী রাজনীতির অন্যতম বড় অন্তরায় হয়ে রয়েছে।



















