আগরতলা, ২২ জুলাই : কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আগরতলার সার্কিট হাউস এলাকায় টানা তৃতীয় দিন বিক্ষোভ চালিয়ে গেলেন ছাত্র-যুবরা। বুধবারও হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান তুলে তাঁরা শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতিমুক্ত পরীক্ষাপদ্ধতির দাবিতে সরব হন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁদের আন্দোলন কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে নয়, বরং দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে রক্ষা করার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি। এক বিক্ষোভকারী বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। আমরা স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায্য শিক্ষাব্যবস্থা চাই।
আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, যন্তর-মন্তর থেকে সোনম ওয়াংচুককে সরিয়ে দেওয়া এবং দিল্লিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জ গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করা হচ্ছে। শিক্ষা আমাদের অধিকার, এটি কোনও বিশেষ সুবিধা নয়।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি আসলে শিক্ষাব্যবস্থার বৃহত্তর সংস্কারের প্রতীক। তাঁদের মতে, পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে শিক্ষামন্ত্রীর নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করা উচিত।
বিক্ষোভকারীরা চার দফা দাবি সামনে রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। দাবিগুলি হলো—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, শিক্ষাব্যবস্থায় পূর্ণ স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত দুর্নীতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা।
আন্দোলনকারীরা জানান, দিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেই আগরতলায় এই কর্মসূচি চলছে। তাঁদের অভিযোগ, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে।
এক ছাত্রনেতা বলেন, আমরা রাজনীতি করতে আসিনি। আমরা শিক্ষাকে রক্ষা করতে এসেছি। সরকার যদি আমাদের দাবি উপেক্ষা করে, তাহলে আমাদের আন্দোলন আরও জোরদার হবে।
টানা তিন দিনের এই অবস্থান-বিক্ষোভ রাজ্যে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
























