নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই (আইএএনএস): সিজেপি-র ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি চলাকালীন ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের কথিত পদক্ষেপের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার জরুরি শুনানির আবেদন বুধবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এ সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আবেদনকারীর আইনজীবীকে বলেন, “আদালতের সময় নষ্ট করবেন না, আপনার সময়ও নষ্ট করবেন না।”
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চে মৌখিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করে আবেদনকারীর আইনজীবী দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। তাঁর দাবি ছিল, যন্তর-মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে।
এর জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “দয়া করে আমাদের সময় নষ্ট করবেন না। আপনার সময় আমাদের সময়ের থেকেও বেশি মূল্যবান।”
আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, ছাত্ররা নিট (NEET) পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার দাবি জানাচ্ছিল এবং বারবার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র সংস্কার, এমনকি সংস্থাটি বিলুপ্ত করার দাবিও তুলেছিল।
তবে তাঁর বক্তব্য মাঝপথেই থামিয়ে দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “ধন্যবাদ।”
এরপর আইনজীবী দাবি করেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ছাত্রদের উপর পুলিশের অত্যাচারের দৃশ্য রয়েছে এবং সেই কারণেই জরুরি শুনানির প্রয়োজন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, ভিডিও দেখে বিষয়টি বিবেচনা করার সময় আদালতের নেই।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “ভিডিওতে আমাদের আগ্রহ নেই। সেগুলো দেখার মতো সময়ও আমাদের নেই।” এরপরই আদালত জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি তালিকাভুক্ত করার আবেদন নাকচ করে দেয়।
উল্লেখ্য, ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির সময় যন্তর-মন্তর থেকে সংসদের উদ্দেশে মিছিল করার চেষ্টা করেন ছাত্র ও আন্দোলনকারীরা। মিছিল রুখতে ব্যারিকেড বসায় দিল্লি পুলিশ এবং নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।
ঘটনার পর মধ্য দিল্লির বিভিন্ন থানায় মোট ১০টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে সংসদ মার্গ থানায় চারটি, কনট প্লেস থানায় তিনটি এবং মন্দির মার্গ, বারাখাম্বা রোড ও কর্তব্য পথ থানায় একটি করে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। সব ক’টি ঘটনার তদন্ত চলছে।
এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পাথর ছোড়া এবং পুলিশি পদক্ষেপ সংক্রান্ত কিছু ভিডিওকে ‘ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। এক্স-এ করা এক পোস্টে নয়াদিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সাধারণ মানুষকে যাচাই না করা ভিডিও শেয়ার না করার এবং শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের তথ্যের উপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (এসসিবিএ) এবং সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশন (এসসিএওআরএ) পৃথক বিবৃতিতে ছাত্র ও আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের নিন্দা করেছে। এসসিবিএ অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও সময়বদ্ধ তদন্ত এবং আহতদের চিকিৎসার দাবি জানিয়েছে। এসসিএওআরএ-ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার তুলে ধরে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।



















