ললিতপুর, ১৬ জুলাই (আইএএনএস): চার বছরের সম্পর্কের পরিণতি যে এমন নৃশংস রূপ নেবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি উত্তরপ্রদেশের ললিতপুরের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী। নিজের ভালোবাসার মানুষের হাতেই চরম বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হতে হলো তাঁকে। অভিযোগ, প্রেমিক এবং তার বন্ধুরা মিলে একটি চলন্ত গাড়িতে ওই তরুণীকে অপহরণ করে গণধর্ষণ করেছে।
এই নারকীয় ঘটনা প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) কালু সিং জানান, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মূল অভিযুক্ত বাদল রাজার সঙ্গে গত চার বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন ওই তরুণী। ঘটনার দিন তিনি নিজের ইচ্ছায় বাদলের সঙ্গে গিয়েছিলেন।”
তবে তরুণীর মায়ের দায়ের করা অভিযোগ সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছে। তাঁর দাবি, স্থানীয় বাসিন্দা বাদল রাজা তার দুই সহযোগীকে নিয়ে জোরপূর্বক তাঁর মেয়েকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রের খবর, এই ভয়াবহ অত্যাচারের মাঝেই কোনোমতে নিজের বোনকে ফোন করতে সক্ষম হন ওই তরুণী এবং পরিবারের কাছে সাহায্যের আকুতি জানান। ফোনের সূত্র ধরে পরিবারের সদস্যরা হন্যে হয়ে তাঁর খোঁজে নামেন। অবশেষে স্থানীয় রেলওয়ে স্টেশনের কাছ থেকে অত্যন্ত বিপর্যস্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করে এবং ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ দল গঠন করে। তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুত দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। এরপর এক রোমাঞ্চকর পুলিশি এনকাউন্টারে ধরা পড়ে তৃতীয় অজ্ঞাতপরিচয় অভিযুক্ত। এনকাউন্টার চলাকালীন পায়ে গুলি লাগায় সে আহত হয় এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অভিযুক্তদের কাছ থেকে একটি .৩১৫ বোরের দেশি পিস্তল, কার্তুজ, মোবাইল ফোন, মদের বোতল এবং অপরাধে ব্যবহৃত গাড়িটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ধৃতদের আদালতে পেশ করা হবে। ঘটনার পরবর্তী তদন্ত চলছে।
উত্তরপ্রদেশে নারী ও শিশুদের ওপর অপরাধের ধারা এখানেই শেষ নয়। রাজ্যের গাজিয়াবাদের রাজ নগর এক্সটেনশন এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ মলের বেসমেন্ট থেকে এক ৭ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত শিশুটি ও তার ভাইদের সঙ্গে নিয়মিত খেলাধুলা করত এবং চকোলেট, চিপস দিয়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করেছিল। শনিবার ভোরে ওই নির্মীয়মাণ বহুতলের বেসমেন্ট থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, মৃত্যুর আগে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছিল এবং মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাতেও পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
______



















