নয়াদিল্লি, ১৬ জুলাই (আইএএনএস): জম্মু ও কাশ্মীরে স্থলপথে অনুপ্রবেশ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ায় এবার জলপথ ব্যবহার করে জঙ্গি ঢোকানোর পরিকল্পনা করছে লস্কর-ই-তৈবা। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সহায়তায় সংগঠনটি এমন একাধিক জলপথ চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে, যেগুলি ব্যবহার করে ভারতে অনুপ্রবেশ সম্ভব হতে পারে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকে সীমান্তে অনুপ্রবেশের একাধিক চেষ্টা হলেও ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী সবকটি ব্যর্থ করে দিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের পাশাপাশি পাঞ্জাব সীমান্তেও নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হওয়ায় স্থলপথে জঙ্গি অনুপ্রবেশ এখন অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।
এক শীর্ষ গোয়েন্দা আধিকারিকের বক্তব্য, নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়াতে জলপথকে তুলনামূলকভাবে সহজ বিকল্প হিসেবে দেখছে লস্কর। যদিও সমুদ্রপথে অনুপ্রবেশ তাদের কাছে নতুন কৌশল নয়। ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই হামলায় অংশ নেওয়া ১০ জঙ্গিও সমুদ্রপথে ভারতে প্রবেশ করেছিল।
সূত্রের খবর, এবার মূল লক্ষ্য জম্মু ও কাশ্মীরে আবার বড়সড়ভাবে জঙ্গি কার্যকলাপ শুরু করা। জম্মু সেক্টরে চেনাব ও তাওয়ি নদী এবং আখনূর এলাকা সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের রুট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অতীতে কুয়াশা, অন্ধকার এবং নদী সংলগ্ন ঘন জঙ্গলকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে এই এলাকায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
গোয়েন্দা মহলের আশঙ্কা, অনুপ্রবেশ সফল হলে প্রথমে জঙ্গিদের জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হবে। লক্ষ্য অন্তত ৫০ থেকে ১০০ জন সক্রিয় পাকিস্তানি জঙ্গিকে উপত্যকায় ঢুকিয়ে ঘন জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা, যাতে নির্দেশ পেলেই তারা হামলা চালাতে পারে।
এ ছাড়াও গুজরাত সীমান্তের সির ক্রিক ও হারামি নালা এলাকাও লস্করের নজরে রয়েছে। জলাভূমি ও দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই এলাকায় নিয়মিত টহল দেওয়া কঠিন। গোয়েন্দাদের ধারণা, ওই পথে গুজরাতে ঢুকে পরে সড়কপথে জম্মু ও কাশ্মীরে পৌঁছানোর পরিকল্পনাও থাকতে পারে।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সম্ভাব্য অনুপ্রবেশকারীদের বিশেষ সামুদ্রিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আইএসআই-এর তত্ত্বাবধানে নৌবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ। পাকিস্তানের মাঙ্গলা ড্যামে এই প্রশিক্ষণ চলছে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, ২৬/১১ মুম্বই হামলার আগে আজমল কাসাব-সহ জঙ্গিদেরও একই এলাকায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।
তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা মোটেই সহজ হবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আগেই জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্তে স্পিডবোট, জলযান, ভাসমান সীমান্ত চৌকি, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং দিন-রাত ব্যবহারের উপযোগী অত্যাধুনিক পর্যবেক্ষণ সরঞ্জামের মাধ্যমে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
গোয়েন্দা মহলের একাংশের মতে, বালুচিস্তান, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় চলমান অস্থিরতার মধ্যে পাকিস্তানের উপর আন্তর্জাতিক নজর বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে জম্মু ও কাশ্মীরে বড় ধরনের হামলা ঘটাতে পারলে তা যেমন লস্কর-ই-তৈবার কার্যকলাপকে পুনরুজ্জীবিত করবে, তেমনই পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকট থেকেও আন্তর্জাতিক দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।



















