আগরতলা, ১৫ জুলাই : উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা থানা এলাকায় একের পর এক চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ধারাবাহিক অপরাধের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা এবং বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সম্প্রতি এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবাদে কদমতলা ব্লক কংগ্রেসের উদ্যোগে থানা ঘেরাও ও রাস্তা অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। সেই সময় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাতের টহল বৃদ্ধি এবং অপরাধমূলক ঘটনাগুলির তদন্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে এরপরও পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এর মধ্যেই ফের কদমতলা বাজারের সর্ণপট্টি এলাকায় ঘটল দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা। মঙ্গলবার গভীর রাতে বাসুদেব জুয়েলারি নামের একটি স্বর্ণালঙ্কারের দোকানে চোরের দল হানা দেয়।
অভিযোগ, দোকানের পিছনের একটি ছোট ঘরের টিনের ছাউনি কেটে দুষ্কৃতীরা ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর মূল কক্ষের তিনটি তালা ভেঙে লকার নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা। কিন্তু লকার খুলতে ব্যর্থ হওয়ায় সেটি দোকানের পিছনের জানালার পাশে ফেলে রেখে যায়। তবে যাওয়ার আগে রুপোর অলঙ্কার এবং কিছু স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায় চোরেরা। চুরি যাওয়া সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন লক্ষ টাকা বলে দাবি দোকান মালিকের।
দোকানের মালিক বরণ কান্তি নাথ জানান, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়ি চলে যান। বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে দোকান খুলতে এসে তিনি দেখেন, ভিতরের সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দোকানের পিছনের টিনের ছাউনি কেটে চোরেরা ভিতরে প্রবেশ করেছে।
ঘটনার পর তিনি কদমতলা থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ রাতের পাহারাদারদের নামের তালিকা-সহ অভিযোগ জমা দেওয়ার পরামর্শ দেয় বলে জানান। যদিও ব্যবসায়ীদের দাবি, কদমতলা বাজারে প্রতিদিন রাতেই বেসরকারি নৈশ প্রহরীর ব্যবস্থা রয়েছে এবং পুলিশের টহলও চলে। তারপরও কীভাবে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটলেও এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ ঘটনার কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এর ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জানমাল এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে চোরচক্রকে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং কদমতলা বাজারসহ গোটা এলাকায় রাতের পুলিশি টহল আরও বাড়াতে হবে। নৈশ প্রহরী ও পুলিশের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।























