ইম্ফল, ১৫ জুলাই (আইএএনএস) : মণিপুরের সেনাপতি শহরে জঙ্গিবিরোধী নিরাপত্তা অভিযানে বাধা দিতে এক উচ্ছৃঙ্খল জনতা অসম রাইফেলসের শিবিরে হামলা চালায়। হামলাকারীরা পাথর ছোড়ে, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। এই ঘটনায় অসম রাইফেলসের একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বুধবার প্রতিরক্ষা সূত্রে জানানো হয়েছে।
হিংসাত্মক ঘটনায় অসম রাইফেলসের একটি হালকা যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া দুটি ট্রাক উল্টে দিয়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। একটি বেসামরিক গাড়িতেও আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিরক্ষা মুখপাত্র জানান, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাকুইলংদি এলাকায়, ওকলং-এ অবস্থিত নির্ধারিত এনএসসিএন (আইএম) শিবির থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার পশ্চিমে সশস্ত্র জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অসম রাইফেলস এলাকা দখল ও তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
তিনি জানান, গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত শিবিরের বাইরে অস্ত্র হাতে ও ইউনিফর্ম পরে সশস্ত্র জঙ্গিদের চলাফেরা করতে দেখা গেছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির নিয়মাবলির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই অভিযোগের বিষয়ে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ গোষ্ঠীকেও আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
অভিযানের সময় মাকুইলংদি ও ওকলং গ্রামের দিকে অগ্রসর হওয়া অসম রাইফেলসের দলকে বিপুল সংখ্যক মানুষ, যার মধ্যে বহু মহিলাও ছিলেন, বাধা দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করেন এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে জানান যে অভিযান শুধুমাত্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনও গ্রামে প্রবেশ করা হবে না বলেও তারা আশ্বাস দেন।
তবে মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টার দিকে সেনাপতি শহরে বড় জমায়েতের খবর পাওয়া যায়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জনতা অসম রাইফেলস শিবিরে পৌঁছে পাথর ছোড়া, সম্পত্তি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালায়, যদিও এর আগেই বাহিনীর অভিযানে অংশ নেওয়া দলগুলি প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মণিপুর পুলিশের সহযোগিতায় অসম রাইফেলস ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করে। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়।
ঘটনার পর সেনাপতি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) দ্রুত মোতায়েন করা হয়। পরে ফিরে যাওয়ার সময় জনতার একাংশ অসম রাইফেলসের গাড়িগুলিতে ভাঙচুর চালায় এবং একটি হালকা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। দুটি ট্রাক উল্টে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় এবং একটি বেসামরিক গাড়িও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তা বাহিনী, মণিপুর পুলিশ এবং সিআরপিএফের সমন্বিত তৎপরতায় মঙ্গলবার গভীর রাতের মধ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে এবং জনতাকে ছত্রভঙ্গ করা হয়।
বর্তমানে সেনাপতির পরিস্থিতি শান্ত এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা বা নিরাপত্তা বাহিনীর কোনও সদস্য আহত বা নিহত হননি বলে প্রতিরক্ষা মুখপাত্র জানান।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং স্থানীয় উদ্বেগ দূর করতে সিভিল সোসাইটি সংগঠন ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। নিরাপত্তা বাহিনী আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসঙ্গে সংযম ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখেই তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবে।
এদিকে, গত ৬ জুলাই মণিপুরের উখরুল জেলায় অসম রাইফেলসের গাড়িতে অতর্কিত হামলায় দুই জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় তিন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টিএম কাসোম, লিটান এবং সিকিবুং এলাকায় তল্লাশি অভিযানের সময় তাদের আটক করা হয়।
উল্লেখ্য, ৬ জুলাই ইম্ফল-দিমাপুর জাতীয় সড়ক (এনএইচ-২)-এর নুংশাং কং এলাকায় সন্দেহভাজন নাগা জঙ্গিদের হামলায় অসম রাইফেলসের ওয়ারেন্ট অফিসার বলবন্ত সিং এবং হাবিলদার চন্দ্র মোহন সিং নিহত হন।
তবে ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগালিম-ইসাক-মুইভাহ (এনএসসিএন-আইএম) ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনের দাবি, তারা কেন্দ্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং চলমান ইন্দো-নাগা শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
























