কলকাতা, ১২ জুলাই (আইএএনএস): তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চালু হওয়া জনস্বাস্থ্য পরিষেবা কর্মসূচি ‘সেবাশ্রয়’-এর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে আয়োজিত এই স্বাস্থ্য শিবিরে ভুল চিকিৎসার কারণে এক মহিলার ডান পা কেটে বাদ দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবীন্দ্রনগর থানায় শুক্রবার মালতি বিশ্বাস নামে ওই মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর পৃথক ও স্বাধীন তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগকারী মহিলা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সোমবার সকাল ১১টার মধ্যে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের সদর দফতর স্বাস্থ্য ভবনে সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথিপত্র নিয়ে উপস্থিত হবেন। সেখানে স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা তাঁদের বক্তব্য শুনবেন, নথি খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এদিকে, মালতি বিশ্বাসের অভিযোগের ভিত্তিতে রবীন্দ্রনগর থানার পুলিশও তদন্ত শুরু করেছে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর পলাতক এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট সুমিত রায় এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে মালতি বিশ্বাস দাবি করেছেন, হাঁটুর ব্যথার চিকিৎসার জন্য তিনি ‘সেবাশ্রয়’ বিনামূল্যের স্বাস্থ্য শিবিরে গিয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে কিছু ওষুধ দেন। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পর তাঁর অবস্থার উন্নতি না হয়ে হাঁটুর ব্যথা আরও বেড়ে যায়।
এরপর তিনি ফের ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে গেলে তাঁকে চিকিৎসা না করে কলকাতার দক্ষিণ প্রান্তের এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মালতি বিশ্বাসের দাবি, এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে জানান, ভুল ওষুধ দেওয়ার কারণেই তাঁর হাঁটুর সমস্যা আরও জটিল হয়েছে। এরপর তাঁকে পার্ক সার্কাসের ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর ডান পা কেটে বাদ দিতে হয়। এরপর তিনি ভুল ওষুধ দেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ‘সেবাশ্রয়’ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁকে কোনও সহযোগিতা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচির বিরুদ্ধে মোট ১৭টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে মালতি বিশ্বাসের অভিযোগও রয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই দুটি পৃথক এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগগুলির মধ্যে অধিকাংশই চিকিৎসায় গাফিলতি ও ভুল চিকিৎসার সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের অনুমতি ছাড়া স্বাস্থ্য শিবির চালানো, শিবিরে অযোগ্য চিকিৎসক নিয়োগ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিতরণের মতো অভিযোগও উঠেছে।
























