আগরতলা, ১২ জুলাই: রাজ্যে মাদকবিরোধী অভিযানে ফের বড়সড় সাফল্য পেল রাজ্য পুলিশের এন্টি নারকোটিক শাখা (এএনসি) এবং আসাম রাইফেলসের গোয়েন্দা শাখা। যৌথ অভিযানে জিরানিয়া এলাকায় একটি বিলাসবহুল গাড়ি থেকে ১০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক স্থানীয় বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা এবং আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশের এন্টি নারকোটিক শাখার সাব-ইন্সপেক্টর রাজীব চৌধুরীর নেতৃত্বে আসাম রাইফেলসের গোয়েন্দা শাখা এবং জিরানিয়া থানার পুলিশ যৌথভাবে জিরানিয়া ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন জাতীয় সড়কে বিশেষ নজরদারি চালায়।
রাত প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ এমজে-০১-এএফ-৩২২৭ নম্বরের একটি বিলাসবহুল মারুতি গাড়ি সেখানে পৌঁছালে সেটিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে গাড়ির ভেতরে থাকা পাঁচটি প্যাকেট থেকে মোট ১০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হয়। একই সঙ্গে গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের পরিচয় দিলীপ ত্রিপুরা ও প্রশান্ত পাল। দিলীপ ত্রিপুরা ধুমাছড়া থানাধীন এলাকার বাসিন্দা বিনন্দ ত্রিপুরার ছেলে। তিনি প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের একজন সরকারি কর্মচারী। অপরদিকে, প্রশান্ত পাল রানিরবাজার থানাধীন দুর্গানগর এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ পালের ছেলে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার চালানটি মিজোরাম থেকে আগরতলায় নিয়ে আসা হচ্ছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, এই মাদক পাচারের সঙ্গে একটি বৃহৎ চক্র জড়িত রয়েছে এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে সেই চক্রের আরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য মিলতে পারে। পুলিশ উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য ই-সাক্ষ্যসহ সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাজেয়াপ্ত করেছে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক।
জিরানিয়া থানায় ধৃত দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য ও মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ নিয়ন্ত্রণ আইন (এনডিপিএস অ্যাক্ট)-এর অধীনে মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার তাদের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে তোলা হবে। তদন্তকারীদের আশা, পুলিশি রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই আন্তঃরাজ্য মাদক পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত আরও বড় মাথাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
























