মুম্বই, ১১ জুলাই (আইএএনএস) : অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মৌলানা সাজিদ রশিদির দেরিতে বিয়ে এবং ধর্ষণ প্রসঙ্গে করা বিতর্কিত মন্তব্যকে সমর্থন করলেন এনসিপি (শরদ পওয়ার) নেতা নাসিম সিদ্দিকি। শনিবার তিনি দাবি করেন, কমপক্ষে ৫০ শতাংশ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে কারণ মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে হয় না।
এর আগে শুক্রবার এক জনসমক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মৌলানা সাজিদ রশিদি বলেন, বিয়ে দেরিতে হওয়ার কারণেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। আপনার মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইলে তাদের দ্রুত বিয়ে দিন। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
শনিবার আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাসিম সিদ্দিকি বলেন, তিনি যা বলেছেন, তা একেবারেই সঠিক।
সিদ্দিকির দাবি, মানুষের যেমন খাদ্যের প্রয়োজন রয়েছে, তেমনই যৌন চাহিদাও একটি স্বাভাবিক বিষয়। তাঁর বক্তব্য, পুরুষরা বিয়ের আগে যৌন সম্পর্কে জড়ালেও সমাজে ততটা সমালোচিত হন না, কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে সামাজিক কলঙ্কের মুখে পড়তে হয়।
তিনি আরও বলেন, কোথাও না কোথাও দেরিতে বিয়েও ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এই বিষয়টিকে ভিন্নভাবে না দেখারও আবেদন জানান তিনি।
সিদ্দিকির মতে, মেয়েরা ১৮ বছর বয়সে ভোট দেওয়ার অধিকার পায়, অর্থাৎ তারা প্রাপ্তবয়স্ক। ছেলেরা ২১ বছর বয়সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়। এরপর বিয়েতে কোনও বাধা থাকা উচিত নয়। একজন মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব তার বিয়ে হওয়া উচিত।
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্যের সংস্পর্শে আসায় দেরিতে বিয়ে হলে তরুণ-তরুণীরা ভুল পথে পরিচালিত হতে পারেন। তাই মৌলানার বক্তব্যকে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, শনিবার উত্তরপ্রদেশ রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বাবিতা চৌহান মৌলানা রশিদির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় বহন করে।
চৌহানের বক্তব্য, আজ ভারতের নারীরা দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের সঙ্গে দেশের নাম উজ্জ্বল করছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও নারী ক্ষমতায়নের কথা বলেন এবং নারীদের পুরুষদের সমান মর্যাদা দেওয়ার পক্ষে। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। আমরা যদি এখনও পিছিয়ে থাকি, তার কারণ এই ধরনের মানসিকতা।
মৌলানা রশিদি এবং নাসিম সিদ্দিকির এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে ধর্ষণের মতো অপরাধের কারণ হিসেবে দেরিতে বিয়েকে দায়ী করার দাবির পক্ষে কোনও প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক বা অপরাধতাত্ত্বিক প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতে, ধর্ষণ একটি জটিল অপরাধ, যার পেছনে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আইনি এবং ব্যক্তিগত নানা কারণ কাজ করে।
























