আগরতলা, ১০ জুলাই: ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬’-এর উদ্বোধনের আগে রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী সুর শোনালেন ত্রিপুরার কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, বিদ্যুৎ, কৃষি ও উদ্যানপালন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছেন দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীরা। সব মিলিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে এসেছে।
মন্ত্রী জানান, আগরতলার হাপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই বিজনেস কনক্লেভের মূল লক্ষ্য ত্রিপুরাকে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য এম. সিন্ধিয়া। এছাড়াও রাজ্য ও কেন্দ্রের একাধিক মন্ত্রী, শিল্পপতি এবং বিশিষ্ট অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
রতন লাল নাথ জানান, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড (টিএসইসিএল)-এর কাছে ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তাব এসেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা ১০ হাজার কোটিরও বেশি টাকার পৃথক প্রকল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে কৃষি ও উদ্যানপালন খাতে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা মূল্যের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে রাজ্যের বিদ্যুৎ খাত। কনক্লেভে ড্রোন প্রযুক্তি উৎপাদন, সৌরবিদ্যুৎ, হাইড্রো-কাইনেটিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ত্রিপুরার কৃষিজ পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার তৈরির প্রসঙ্গ তুলে রতন লাল নাথ বলেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লুলু গ্রুপ-এর প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁরা ত্রিপুরার সুগন্ধি লেবু, আনারস, আদা, সুগন্ধি চাল-সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য সংগ্রহের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। খুব শীঘ্রই রাজ্য কৃষি গবেষণা কেন্দ্র থেকে এই সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
এছাড়াও বিদ্যুৎ ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের একাধিক সংস্থা ইতিমধ্যেই ত্রিপুরায় এসে কাঁঠাল, আনারস, কাঁকরোল, লেবু, আদা-সহ বিভিন্ন কৃষিজ পণ্যের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। কনক্লেভে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, উৎপাদন ও বিপণনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে বলে জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের আশা, ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬’-এর মাধ্যমে শিল্প, কৃষি, উদ্যানপালন এবং নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগের পথ সুগম হবে। এর ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং ত্রিপুরার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।






















