আগরতলা, ৯ জুলাই: স্বামীর বিরুদ্ধে অবৈধ নেশা কারবারের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করায় এক গৃহবধূকে মারধর এবং তাঁর দেড় বছরের কন্যা সন্তানকে জোরপূর্বক আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে মেয়ের খোঁজ নিতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন গৃহবধূর মা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সন্ধ্যায় আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিতা গৃহবধূ ও তাঁর মা।
অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, প্রায় তিন বছর আগে তেলিয়ামুড়ার বাসিন্দা রুকিয়া বেগম তাঁর মেয়ে হোসেনা বেগমের বিয়ে দেন আমতলী থানার অন্তর্গত কুলতলী মতিনগর এলাকার বাসিন্দা ইছাক মিয়ার ছেলে শাকিল মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের পর তাঁদের ঘরে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। প্রথমদিকে সংসার ভালোভাবেই চললেও পরে পারিবারিক অশান্তি শুরু হয় বলে অভিযোগ।
হোসেনা বেগমের অভিযোগ, বুধবার তিনি জানতে পারেন তাঁর স্বামী শাকিল মিয়া অবৈধ নেশা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি তিনি তাঁর মাকে জানাবেন বলে জানালে স্বামী শাকিল মিয়া এবং শাশুড়ি নূর ভানু তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন চালান। নির্যাতিতার দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ এবং এর আগে তাঁর শরীরে অস্ত্রোপচারও হয়েছে।
অভিযোগ, মেয়ের উপর নির্যাতনের খবর পেয়ে তেলিয়ামুড়া থেকে রুকিয়া বেগম মেয়ের বাড়িতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়।
একইসঙ্গে হোসেনা বেগমের দেড় বছরের কন্যা সন্তানকে জোর করে নিজেদের কাছেই রেখে দেন অভিযুক্ত স্বামী ও শাশুড়ি। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় আমতলী থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা গৃহবধূ ও তাঁর মা। অভিযোগে শিশুকন্যাটিকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও পুলিশ আসার খবর পেয়ে শিশুকন্যাটিকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকালে শিশুটিকে আমতলী থানায় এনে মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানানো হলেও, দুপুর পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ।
পরে নির্যাতিতা গৃহবধূ ও তাঁর মা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গোটা ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। তাঁরা অবিলম্বে শিশুকন্যাটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্ত স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এদিকে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও শিশুকন্যাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য শিশু সুরক্ষা ও অধিকার কমিশন এবং পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে। তবে এ বিষয়ে আমতলী থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
























