আগরতলা, ৮ জুলাই: ত্রিপুরায় শিল্প, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) একদিনের সফরে রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন(ডোনার) এবং যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য এম. সিন্ধিয়া। সফরকালে তিনি আগরতলার হাঁপানিয়াস্থ আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ‘ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন।
এই কনক্লেভে রাজ্যের শিল্পপতি, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, লজিস্টিক পরিকাঠামো এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে কেন্দ্র সরকারের অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরবেন তিনি।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬-এর মূল লক্ষ্য হল রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা, ব্যবসা ও উদ্যোক্তা সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় শিল্পকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করা। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্প বিকাশে গতি আনাও এই সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার এই সফরকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির বাস্তবায়ন এবং ‘বিকশিত উত্তর-পূর্ব’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্র সরকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিল্প, পর্যটন এবং বিনিয়োগ খাতে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘রাইজিং নর্থইস্ট ইনভেস্টরস সামিট ২০২৫’-এ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য প্রায় ৪.৫ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব আসে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ত্রিপুরার জন্যই প্রায় ২৩,৮৬৭ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব জমা পড়ে। ওই সম্মেলনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যার অনেকগুলির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
সেই ধারাবাহিকতায় ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬-কে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ববর্তী বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলির দ্রুত বাস্তবায়ন, নতুন বিনিয়োগ আহ্বান এবং রাজ্যে শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে একাধিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
























