চণ্ডীগড়, ৮ জুলাই (আইএএনএস) : অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত চলচ্চিত্র ‘সতলুজ’ পাঞ্জাবের সর্বত্র প্রদর্শনের ঘোষণা দিল শিরোমণি অকালি দল (এসএডি)। দলের সভাপতি সুখবীর সিং বাদল বুধবার এক বিবৃতিতে জানান, রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম, শহর ও নগরে এই চলচ্চিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সুখবীর সিং বাদল বলেন, বর্তমান প্রজন্ম এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভাই জস্বন্ত সিং খালরা এবং ভুয়ো সংঘর্ষে নিহত হাজার হাজার নিরীহ শিখ যুবকের ওপর তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের দমন-পীড়নের ইতিহাস তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি দাবি করেন, ‘সতলুজ’ চলচ্চিত্রে পাঞ্জাবের সেই অস্থির সময়ের যন্ত্রণা ও পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শ্রী হরমন্দির সাহিব ও শ্রী অকাল তখ্ৎ সাহিবে হামলার পর শিখ যুবসমাজ গভীর মানসিক ও ধর্মীয় সংকটের মধ্যে পড়েছিল।
বাদল আরও বলেন, একই বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে নয়াদিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য নিরীহ শিখের ওপর নজিরবিহীন হত্যালীলা চালানো হয়েছিল। এখন সেই সময়ের ঘটনাগুলিকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে স্মরণ ও নথিভুক্ত করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অকালি দলের সভাপতি দলের সমস্ত কর্মী, পদাধিকারী ও নেতাদের উদ্দেশে নির্দেশ দিয়ে বলেন, পাঞ্জাবের প্রতিটি গ্রাম, মহল্লা, শহর ও নগরের কোণে কোণে ‘সতলুজ’ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে নতুন প্রজন্ম অতীতের ঘটনাগুলি সম্পর্কে জানতে পারে।
এদিকে, চলচ্চিত্রটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিজেপি বা কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা রয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু।
জলন্ধরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিষয়টিকে সঠিক প্রেক্ষাপটে দেখা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, চলচ্চিত্রে যে সময়ের ঘটনা দেখানো হয়েছে, তখন পাঞ্জাব এবং কেন্দ্রে উভয় ক্ষেত্রেই কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় ছিল। তাই এই চলচ্চিত্র বা তার প্রদর্শন সংক্রান্ত ঘটনাকে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তথ্যগতভাবে অসত্য।
বিট্টু আরও জানান, চলচ্চিত্রের সেন্সর ও শংসাপত্র সংক্রান্ত নিয়ম মূলত প্রেক্ষাগৃহে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্যদিকে, স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও কেবল সম্প্রচারের জন্য আলাদা আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো রয়েছে। তাঁর দাবি, ‘সতলুজ’-কে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি৫ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বিজেপি বা কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করার কোনও আইনি বা বাস্তবভিত্তিক ভিত্তি নেই।



















