কলকাতা, ৮ জুলাই (আইএএনএস): দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর মোড়। পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু হলো মামলার প্রথম গ্রেফতার হওয়া মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। বুধবার ভোরে এই ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত অভিযুক্ত এক পুলিশ কর্মীর সার্ভিস রাইফেল কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় পুলিশের পাল্টা গুলিতে নিহত হয়।
রাজ্য পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের (ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশন) জন্য প্রভাসকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে আচমকাই সে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মীর সার্ভিস রাইফেল ছিনিয়ে নিয়ে অন্ধকারের সুযোগে পালানোর চেষ্টা করে।
পুলিশ ধাওয়া করলে, প্রভাস ছিনিয়ে নেওয়া রাইফেল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। আত্মরক্ষার্থে এবং তাকে রুখতে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রভাসকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
গত রবিবার সকালে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে ওই ১২ বছরের নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, তাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করার পর খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে পথ অবরোধ এবং তুমুল বিক্ষোভ দেখান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ঘটনার তদন্তে একটি ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনার দিন রবিবার সন্ধ্যায় প্রথম প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশি জেরায় প্রভাস প্রথমে তদন্তে সহযোগিতা না করলেও এবং বারবার বয়ান পাল্টালেও, পরে তার সূত্র ধরেই ঘটনার মূল চক্রী আনন্দ সর্দার এবং আরও এক অভিযুক্ত দিবাকর সরকারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। স্থানীয়দের বয়ান অনুযায়ী, শনিবার নিখোঁজ হওয়ার আগে ওই নাবালিকাকে প্রভাসের সঙ্গেই শেষবার দেখা গিয়েছিল।
আজ ভোরে ঘটনার সম্পূর্ণ যোগসূত্র মেলাতে এবং প্রভাস ঠিক কী ভূমিকা পালন করেছিল তা খতিয়ে দেখতেই তাকে নিয়ে সূর্যপুরের ওই এলাকায় গিয়েছিল সিট-এর গোয়েন্দারা। সেখানেই এই এনকাউন্টারের ঘটনাটি ঘটে।



















