মুম্বই, ৭ জুলাই (আইএএনএস): মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ের সদ্য উদ্বোধন হওয়া ‘মিসিং লিঙ্ক’ প্রকল্পে ভূমিধসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রের মহাযুতি সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করলেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)-এর নেতা সন্দীপ দেশপাণ্ডে। ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তিনি বলেন, “মুম্বই-পুণে মিসিং লিঙ্কে ভূমিধসের জন্যও পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুই দায়ী। আর যারা এখনও সরকারের সমালোচনা করতে চান, তারা পাকিস্তানে চলে যান।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এই ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের মাধ্যমে দেশপাণ্ডে বিজেপির সেই প্রবণতাকেই নিশানা করেন, যেখানে দেশের বিভিন্ন সমস্যার জন্য প্রায়শই ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুকে দায়ী করা হয়।
এদিকে, শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে)-র মুখপত্র ‘সামনা’-র সম্পাদকীয়েও এই ঘটনায় মহাযুতি সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পরিকাঠামোগত ব্যর্থতার ঘটনা ঘটলেই সরকার প্রশাসনিক গাফিলতি আড়াল করতে প্রকৃতিকে দায়ী করে।
সম্পাদকীয়তে আরও দাবি করা হয়েছে, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস নজিরবিহীন বৃষ্টিপাতকে সম্পূর্ণভাবে দায়ী করেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বর্ষার আগে প্রশাসন সমস্ত প্রস্তুতি নিয়েছিল, কিন্তু বৃষ্টির তীব্রতা সব ধরনের প্রকৌশলগত হিসাবকে ছাপিয়ে গিয়েছে। বিরোধীদের মতে, এ ধরনের ব্যাখ্যা এখন সরকারের ‘চেনা রক্ষাকবচ’ হয়ে উঠেছে।
সোমবার মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ের সদ্য উদ্বোধন হওয়া ‘মিসিং লিঙ্ক’ প্রকল্পে প্রায় ১০০ টন মাটি ও ধ্বংসাবশেষ ধসে পড়ে। প্রকল্পটি মহাযুতি সরকার ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিস্ময়’ হিসেবে প্রচার করেছিল। কিন্তু উদ্বোধনের কয়েক দিনের মধ্যেই ভূমিধস এবং রাস্তার বিভিন্ন অংশে গর্ত তৈরি হওয়ার অভিযোগ ওঠায় নির্মাণের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।
বিরোধী দলগুলি মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসকে নিশানা করে প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। একইসঙ্গে তাঁকে ‘ইনফ্রা ম্যান’ হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টাও সমালোচনার মুখে পড়ে।
অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবীস বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং নজিরবিহীন বৃষ্টিপাতের কারণেই এই ভূমিধস হয়েছে। তাঁর দাবি, ভূমিধসের সঙ্গে সঙ্গেই যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং মুম্বই ও পুণে—দুই দিকের গাড়ি আটকে বা অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সমস্ত সংস্থা দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেমেছিল।
সোমবার সারাদিন ‘মিসিং লিঙ্ক’-এ যান চলাচল বন্ধ থাকার পর রাতে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে রাস্তা খুলে দেওয়া হয়। রাত প্রায় ১১টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে জানান, ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
ফড়নবীস আরও বলেন, প্রায় ১০০ টন ধ্বংসাবশেষ রাস্তার উপর নেমে এসেছিল এবং যে জায়গায় ভূমিধস হয়েছে, সেখানে অতীতে এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি।
























