মুম্বই, ৫ জুলাই (আইএএনএস): টানা ভারী বৃষ্টিতে মহারাষ্ট্রের একাধিক জেলায় জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেন কংগ্রেস নেতা হুসেন দলওয়াই। তাঁর অভিযোগ, পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারের হাতে যথেষ্ট সময় থাকলেও স্থায়ী সমাধানের কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে, মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) মুম্বই, থানে, রায়গড় এবং পালঘর জেলায় লাল সতর্কতা জারি করেছে।
প্রবল বৃষ্টির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জল জমেছে। ব্যাহত হয়েছে মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেন পরিষেবা এবং একাধিক জায়গায় স্কুল বন্ধ রাখতে হয়েছে। এছাড়া রাস্তা ধসে যাওয়া, গাছ উপড়ে পড়া এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
থানে, পালঘর, নবি মুম্বই এবং পুনেতেও ভূমিধস, রাস্তা প্লাবিত হওয়া এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে আইএএনএস-কে হুসেন দলওয়াই বলেন, “আগে তো বৃষ্টি হচ্ছিল না। সরকারের হাতে কাজ করার জন্য অনেক সময় ছিল। কিন্তু তারা ঠিকভাবে কাজ করেনি। এমন নিম্নমানের কাজ হয়েছে যে তা অবিশ্বাস্য। চারদিকে রাস্তার অবস্থা খারাপ, সর্বত্র জল জমে রয়েছে। বাইরে তাকালেই মনে হচ্ছে যেন পুকুর। আমি বারবার ঠিকাদারকে বলেছি, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বৃহন্মুম্বই পুরসভার (বিএমসি) ইঞ্জিনিয়াররা কি কাজ করছেন? এত ম্যানহোল খোলা রয়েছে, তাতে পড়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এগুলো আগেই বন্ধ করা উচিত ছিল। এখন বলা হচ্ছে মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। শুধু ক্ষতিপূরণ দিয়ে কী হবে? বৃষ্টিজনিত এই সমস্যাগুলি এড়াতে প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।”
এদিকে, পুনেতে টানা বৃষ্টির জেরে রবিবার ভোরে একটি আবাসনের সীমানা প্রাচীর ভেঙে পড়ায় অন্তত ১৪টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দমকল সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার কুরলার লোকমান্য তিলক টার্মিনাস (এলটিটি) রেলস্টেশনেও জল জমার ঘটনা ঘটে। রবিবার সকালেও মুম্বই, থানে এবং পুনেতে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত ছিল।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ৪৮ ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে থানে জেলায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জল জমা, গাছ উপড়ে পড়া এবং একটি আবাসনের বারান্দা ধসে পড়ার ঘটনায় দু’জন আহত হয়েছেন।
























