বিশালগড়, ৫ জুলাই: বিশালগড়ে ফের দুঃসাহসিক অপরাধের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গভীর রাতে একটি পরিবারের ওপর হামলা, ছিনতাই এবং গাড়িচালককে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযোগ, বক্সনগরের আশাবাড়ি এলাকার একটি পরিবার শনিবার গভীর রাতে আগরতলায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিল। রাত প্রায় দু’টো নাগাদ বিশালগড়ের মুড়াবাড়ি এলাকায় পৌঁছাতেই কয়েকজন দুষ্কৃতী তাদের গাড়ির গতিরোধ করে। গাড়িতে তখন তিনজন মহিলা, দুই শিশু এবং চালক ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রথমে দুষ্কৃতীরা গাড়ি থামাতে বাধ্য করে। এরপর গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে অস্ত্রের মুখে সকলকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, মহিলা ও শিশুদের রাস্তার পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে তাঁদের কাছে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন এবং শরীরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর থেকে গাড়িচালক দুলাল মিয়ার কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা। ভয়ে সারারাত জঙ্গলের মধ্যেই আশ্রয় নেন মহিলা ও শিশুরা। রবিবার ভোরে স্থানীয় মানুষের নজরে বিষয়টি আসার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বিশালগড় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের অগ্রগতিতে রবিবার দুপুরে বিশালগড়ে সংঘটিত এই ছিনতাই ও অপহরণকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে রঘুনাথপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে পায়েল আলম ও জুয়েল মিয়া নামে দুই যুবককে আটক করে পুলিশ। পাশাপাশি একটি স্করপিও গাড়িও আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা এবং নিখোঁজ গাড়িচালকের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশালগড় ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেলেও তা নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ঘটনার প্রকৃত কারণ, ছিনতাইয়ের পরিমাণ এবং গাড়িচালকের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বর্তমানে নিখোঁজ চালককে উদ্ধার, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ এবং পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
























