ইম্ফল, ৫ জুলাই (আইএএনএস): বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর রবিবার প্রকাশিত মণিপুরের খসড়া ভোটার তালিকায় ফেরও পুরুষ ভোটারের তুলনায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) অরুণ কুমার সিনহা জানান, ১ জুলাই, ২০২৬-কে যোগ্যতার নির্ধারিত তারিখ ধরে প্রস্তুত করা খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী মণিপুরে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১৯,৩৪,৩৯৯। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ৯,৯৩,৬৬০ জন, পুরুষ ভোটার ৯,৪০,৪৪৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২৯৩ জন।
তিনি জানান, খসড়া ভোটার তালিকায় প্রতি ১,০০০ জন পুরুষ ভোটারের বিপরীতে মহিলা ভোটারের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১,০৫৭, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
খসড়া তালিকা অনুযায়ী, ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি নতুন ভোটারের সংখ্যা ২০,৪৪২।
সিইও জানান, পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ার পর বিভিন্ন কারণে মোট ১,৫৮,৬৭৭ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা মোট ভোটারের ৭.৫৮ শতাংশ। এর মধ্যে ৪৩ হাজার জনের মৃত্যু হয়েছে, ৩৪,৭৪০ জনের খোঁজ মেলেনি বা তাঁরা অনুপস্থিত ছিলেন এবং ৭২,৪৭৩ জন স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। এছাড়াও অন্যান্য কারণেও কিছু নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ৮৫টি নতুন ভোটকেন্দ্র তৈরি হওয়ায় রাজ্যে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,০৪১।
দাবি ও আপত্তি গ্রহণ, যাচাই-বাছাই এবং নিষ্পত্তির পর আগামী ৬ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
অরুণ কুমার সিনহা জানান, ৫ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি গ্রহণের সময়সীমার মধ্যে যে কোনও ভোটার বা স্বীকৃত রাজনৈতিক দল যোগ্য ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্তির দাবি জানাতে পারবেন। একইসঙ্গে অযোগ্য ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়ার আবেদনও করা যাবে।
তিনি বলেন, এই পর্যায়ের মূল উদ্দেশ্য হল ১ জুলাই, ২০২৬ বা তার আগে ১৮ বছর পূর্ণ করা সকল নতুন যোগ্য নাগরিক এবং পূর্বে বাদ পড়া ভোটারদের তালিকাভুক্ত করা। এ জন্য ৬০ জন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং ৮৪ জন সহকারী ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা পড়া দাবি ও আপত্তিগুলি খতিয়ে দেখবেন।
এছাড়া ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যের ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং ভোটার তালিকায় ভুলভাবে অন্তর্ভুক্ত নামের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর সুযোগও এই প্রক্রিয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।
সিইওর দাবি, রাজ্যের ১৬টি জেলার জেলা নির্বাচন আধিকারিক, ৬০ জন ইআরও, ৮৪ জন এইআরও, ৩১৭ জন বিএলও সুপারভাইজার এবং ২,৯৫৬ জন বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)-এর সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তাঁদের কাজে স্বেচ্ছাসেবীরাও সহায়তা করেছেন।
তিনি আরও জানান, স্বীকৃত ১০টি রাজনৈতিক দলের জেলা সভাপতি-সহ মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও সক্রিয়ভাবে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে মোট ৬,৩৬৩ জন বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ) নিয়োগ করা হয়।
সিনহা বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর সময় রাজ্যে মাত্র ৫,০০৩ জন বিএলএ ছিলেন। বর্তমানে সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া রাজনৈতিক দলগুলির সক্রিয় অংশগ্রহণেরই প্রমাণ।
তিনি জানান, বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের মধ্যে গণনা ফর্ম বিতরণ করেন এবং পরে অন্তত তিন দফায় গিয়ে পূরণ করা ফর্ম সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি বিএলএরাও যাতে কোনও যোগ্য ভোটার বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
অনুপস্থিত, অন্যত্র স্থানান্তরিত, মৃত এবং ডুপ্লিকেট ভোটারদের তথ্য যাচাই করতে প্রতিটি বিএলও তাঁদের সংশ্লিষ্ট বিএলএদের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করেন। এছাড়া ভোটারদের গণনা ফর্ম পূরণে সহায়তা করতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর এবং ১৬টি জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কার্যালয়ে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্রও খোলা হয়।























