গুয়াহাটি, ২ জুলাই (আইএএনএস): অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সুশাসন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে রোডম্যাপ প্রকাশ করল অসম সরকার। বৃহস্পতিবার এক্স-এ পোস্ট করে এই ঘোষণা করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
এক্স-এ শেয়ার করা একটি ভিডিওতে এআই-ভিত্তিক ভবিষ্যতের জন্য সরকারের পরিকল্পনা এবং প্রশাসন ও উন্নয়নমূলক কাজে এই প্রযুক্তিকে ধাপে ধাপে অন্তর্ভুক্ত করার রূপরেখা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “অসম অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং রাজ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রূপান্তরমূলক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায়। একই সঙ্গে এই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলিও দায়িত্বশীলভাবে মোকাবিলা করা হবে।”
তিনি জানান, এআই-নির্ভর ভবিষ্যতের জন্য রাজ্যকে প্রস্তুত করতে যে প্রাথমিক পদক্ষেপগুলি নেওয়া হচ্ছে, সেই বিষয়গুলিই ভিডিওতে তুলে ধরা হয়েছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন রাজ্য সরকার জনপরিষেবা আরও উন্নত করা, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহ দিতে এআই-ভিত্তিক সমাধান ব্যবহারের দিকে জোর দিচ্ছে।
অসম সরকারও গত কয়েক বছরে অনলাইন নাগরিক পরিষেবা, জমির নথির ডিজিটাল রূপান্তর, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি ব্যবস্থা এবং ই-গভর্ন্যান্সের প্রসারে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এআই ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কার্যকর হবে, নিয়মিত প্রশাসনিক কাজের স্বয়ংক্রিয়তা বাড়বে এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রে পরিষেবার মান আরও উন্নত হবে।
রাজ্য সরকার উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়ে তোলার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই গ্রহণের ফলে প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং প্রচলিত বিভিন্ন ক্ষেত্রেও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতা, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, ভুয়ো তথ্যের বিস্তার, অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত এবং কর্মসংস্থানের পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, উদ্ভাবন এবং দায়িত্বশীল নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে এআই-নির্ভর উন্নয়নের জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে চায় অসম সরকার। এই উদ্যোগ উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং বিনিয়োগের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে অসমকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টাকেও আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
























