আইজল, ১৭ আগস্ট (আইএএনএস): সদ্য উদ্বোধন হওয়া বৈরাবি-সাইরাং রেলপথ, দক্ষিণ মিজোরামের জোরিনপুই পর্যন্ত এর প্রস্তাবিত সম্প্রসারণ এবং কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পকে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ক্ষেত্রে ‘গেমচেঞ্জার’ হিসেবে অভিহিত করলেন মিজোরামের রাজ্যপাল অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ভি কে সিং।
শনিবার রাতে আইজলে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, এই পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির সুফল যাতে মিজোরামের মানুষ সম্পূর্ণভাবে পান, তার জন্য এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।
প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, দক্ষিণ অসমের কাছে অবস্থিত বৈরাবি থেকে আইজলের কাছে সাইরাং পর্যন্ত ৫১.৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথটি ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বোধন করেন। এই রেলপথ দক্ষিণ দিকে আরও ২০০ কিলোমিটারের বেশি সম্প্রসারণ করে দক্ষিণ মিজোরামের জোরিনপুই পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জোরিনপুই পর্যন্ত রেল সংযোগ তৈরি হলে তা কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে মিয়ানমারের পালেতওয়া হয়ে সিত্তে বন্দর পর্যন্ত যোগাযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যপালের মতে, এই সংযোগ মিজোরামের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
মিজোরামের পর্যটন সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন জেনারেল ভি কে সিং। তিনি বলেন, রাজ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, সংগীত, খাবার এবং মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তা পর্যটকদের আকর্ষণ করার বিপুল সম্ভাবনা রাখে। এর জন্য উন্নত পরিকাঠামো, পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় শহর, প্রশিক্ষিত পর্যটনকর্মী ও গাইড, হোমস্টে এবং উন্নতমানের স্থানীয় পণ্যের ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হস্তশিল্প, হ্যান্ডলুম পণ্যসহ মিজোরামের স্থানীয় উৎপাদন যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাজারে পৌঁছতে পারে, তার জন্য শক্তিশালী বাজার-সংযোগ গড়ে তোলার আহ্বান জানান রাজ্যপাল। তাঁর মতে, এর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ও ‘ইকোসিস্টেম’ তৈরি করা জরুরি।
মিজো যুবকদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাজ্যপাল বলেন, সিভিল সার্ভিস, আইআইটি, আইআইএম, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিরক্ষা পরিষেবা, স্কলারশিপ এবং নতুন পেশার ক্ষেত্রে তরুণদের উৎসাহিত ও সহযোগিতা করতে হবে। যুবকদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রাজ্যের বাইরে গিয়ে সাফল্য অর্জন করে সেই অভিজ্ঞতা মিজোরামে ফিরিয়ে আনার কথাও বলেন তিনি।
তবে উন্নয়নের সঙ্গে মিজোরামের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রক্ষা করার ওপরও জোর দেন ভি কে সিং। তিনি বলেন, রাজ্যের সংস্কৃতি, সামাজিক সংহতি, পরিবেশ এবং সামাজিক মূল্যবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, যা সংরক্ষণ করা জরুরি।
৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাজ্যপাল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ স্মরণ করার আহ্বান জানান। মিজোরামের বিশিষ্ট নেতা ও বীরদের মধ্যে লালনু রোপুইলিয়ানি, নিকুয়ালা, লিয়ানফুঙ্গা সাইলো, জাকাপা ও খুয়াংচেরার অবদানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও দ্রুত উন্নয়ন পৌঁছে যাচ্ছে। মিজোরামও এখন একটি নতুন যুগের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। আগামী প্রজন্মের জন্য আরও উন্নত রাজ্য গড়ে তুলতে সামনে থাকা সুযোগগুলিকে সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগাতে হবে।
অনুষ্ঠানে একলব্য মডেল রেসিডেনশিয়াল স্কুল, ত্লাংনুয়াম এবং আইজলের নিউহফ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের পড়ুয়ারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। স্থানীয় শিল্পীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লাল থানহাওলা ও জোরামথাঙ্গা, বিধানসভার স্পিকার লালবিয়াকজামা-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।


















