News Flash

  • Home
  • উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  • উত্তর-পূর্বে সর্বাধিক বর্ষার ঘাটতি মেঘালয়ে, স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৪ শতাংশ কম বৃষ্টি: আইএমডি
Image

উত্তর-পূর্বে সর্বাধিক বর্ষার ঘাটতি মেঘালয়ে, স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৪ শতাংশ কম বৃষ্টি: আইএমডি

শিলং, ২ জুলাই (আইএএনএস): পৃথিবীর অন্যতম সর্বাধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত মেঘালয়েই চলতি বর্ষা মৌসুমে উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টির ঘাটতি দেখা গিয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)-র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৪ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের এক আধিকারিক জানান, ১ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত মেঘালয়ে যেখানে স্বাভাবিকভাবে ৭৫০.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা, সেখানে হয়েছে মাত্র ১৯২.৯ মিলিমিটার। ফলে রাজ্যটি ‘বৃহৎ ঘাটতি’ শ্রেণিতে পড়েছে।

শুধু ১ জুলাই-ই স্বাভাবিক ২৮.৭ মিলিমিটারের পরিবর্তে মাত্র ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা প্রায় ৯০ শতাংশ ঘাটতির সমান।

বৃষ্টির এই তীব্র ঘাটতি কৃষি, জলসম্পদ এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল মেঘালয়ের বাস্তুতন্ত্রের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হল, বিশ্বের সর্বাধিক বৃষ্টিপ্রবণ স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম সোহরা (চেরাপুঞ্জি) এবং মাওসিনরাম এই রাজ্যেই অবস্থিত। ফলে বৃষ্টির এমন ঘাটতি জলবায়ুর পরিবর্তিত প্রবণতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

গত মাসে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে মেঘালয় বিধানসভার পরিবেশ কমিটির চেয়ারম্যান রাক্কাম এ. সাংমা সতর্ক করে বলেছিলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে রাজ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বৃষ্টির ধরনে পরিবর্তন, জলসংকট এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি বনসৃজন এবং প্রাকৃতিক জলস্রোত সংরক্ষণের মতো উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

বর্ষার এই ঘাটতি এমন সময়ে দেখা দিল, যখন খরিফ মরসুমে রাজ্যজুড়ে ধান চাষ এবং উদ্যানপালনের কাজ চলছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে বপন বিলম্বিত হতে পারে, মাটির আর্দ্রতা কমে যেতে পারে এবং ফসল উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, কম বৃষ্টির ফলে নদীর জলপ্রবাহ হ্রাস, ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্ভরণে বাধা এবং জীববৈচিত্র্য ও বর্ষাকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে সামগ্রিকভাবে ৪০ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। উত্তর-পূর্বে মেঘালয়ের পর সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা গিয়েছে মণিপুরে (৭১ শতাংশ), নাগাল্যান্ডে (৫১ শতাংশ) এবং অরুণাচল প্রদেশে (৪৫ শতাংশ)। অন্যদিকে, উত্তর-পূর্বের একমাত্র রাজ্য হিসেবে সিকিমে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

Releated Posts

‘অসমের মানুষ শান্তিতে ঘুমান, কারণ ২৪ ঘণ্টা পাহারায় অসম পুলিশ’: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

গুয়াহাটি, ১ অক্টোবর (আইএএনএস): অসম পুলিশ দিবস উপলক্ষে রাজ্যের পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের ২৪ ঘণ্টার…

ByByNews Desk Oct 1, 2026

উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের জন্য আগে শান্তি প্রয়োজন: মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী

ইম্ফল, ৩০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মণিপুরে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সবার আগে শান্তি ও স্থিতিশীলতা…

ByByNews Desk Sep 30, 2026

সীমান্ত সমন্বয় জোরদারে শিলংয়ে সেনা ও বিএসএফের কৌশলগত বৈঠক

শিলং, ৩০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং অপারেশনাল সমন্বয় আরও জোরদার করতে শিলংয়ে সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী…

ByByNews Desk Sep 30, 2026

হিজাম ইরাবতের সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আদর্শ স্মরণ মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর

ইম্ফল, ৩০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মণিপুরের ৩৬টি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের স্বপ্ন দেখেছিলেন জননেতা হিজাম ইরাবত। তাঁর…

ByByNews Desk Sep 30, 2026
Scroll to Top