কোয়েটা, ৪ জুলাই (আইএএনএস): বালোচিস্তানের গওয়াদর জেলার জিওয়ানি অঞ্চলে পাকিস্তান কোস্ট গার্ডসের একটি শিবিরে হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। সংগঠনটির দাবি, হামলায় পাকিস্তানের ৩০ জনেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং বহুজন আহত হয়েছেন।
বিএলএ-র মুখপাত্র জিয়ান্দ বালোচ এক বিবৃতিতে জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় জিওয়ানির পানওয়ান এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। তাঁর দাবি, সংগঠনের মাজিদ ব্রিগেডের এক সদস্য বিস্ফোরকবোঝাই একটি মাজদা গাড়ি কোস্ট গার্ডসের শিবিরে ঢুকিয়ে বিস্ফোরণ ঘটান।
বিবৃতিতে বলা হয়, “শক্তিশালী ওই বিস্ফোরণে কোস্ট গার্ডসের সুরক্ষিত শিবির সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।”
বিএলএ-র সংবাদমাধ্যম ‘হাক্কাল’ ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে একটি ট্রাককে শিবিরে প্রবেশ করতে এবং কয়েক মুহূর্ত পর শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটতে দেখা যায়। পরবর্তী দৃশ্যে শিবিরের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, বিস্ফোরণের পর তাদের ‘ফতেহ স্কোয়াড’-এর সদস্যরা চারদিক থেকে শিবিরে প্রবেশ করে জীবিত থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
বিএলএ-র বক্তব্য অনুযায়ী, এই অভিযানে পাকিস্তানের ৩০ জনেরও বেশি সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন এবং বহুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এছাড়া, বালোচিস্তানের “পূর্ণ স্বাধীনতা” অর্জন না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে একই তীব্রতায় হামলা চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএলএ।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত সপ্তাহে বালোচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় ২৩টি পৃথক অভিযানের দায় স্বীকার করেছিল বিএলএ। তাদের দাবি ছিল, ওইসব হামলায় পাকিস্তানের ১৬ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
সংগঠনটির দাবি, ২১ থেকে ৩০ জুনের মধ্যে চালানো ওই অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী, বিভিন্ন অবকাঠামো এবং তাদের ভাষায় “শোষণমূলক প্রকল্প”-এর সঙ্গে যুক্ত যানবাহনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। পাশাপাশি “অর্থনৈতিক অবরোধ”-এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন সড়কপথ ও বাণিজ্যিক যানবাহনেও হামলা চালানো হয়েছিল।
তবে বিএলএ-র নিহত ও আহতের দাবির বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।



















