কলকাতা, ৪ জুলাই (আইএএনএস): প্রাক্তন ও গ্রেফতার তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তি (ডিএ) মামলার তদন্তে শেল সংস্থার মাধ্যমে অপরাধলব্ধ অর্থ পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, দেবরাজ চক্রবর্তী এবং তাঁর স্ত্রী তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও ভক্তিগীতি শিল্পী অদিতি মুন্সি বেআইনি উপায়ে যে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন, তার একটি অংশ শেল সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই ‘ডিসি গ্লোবাল’ নামে একটি সংস্থার নথি হাতে পেয়েছে সিট। তদন্তকারীদের দাবি, এই সংস্থার মাধ্যমেই কয়েক কোটি টাকার অপরাধলব্ধ অর্থ দেবরাজ ও অদিতি মুন্সির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং সহযোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
সরকারি নথিতে সংস্থাটির মালিক হিসেবে দেবরাজের বাবা তরুণ কুমার চক্রবর্তীর নাম রয়েছে। তবে তদন্তকারী এক পুলিশ আধিকারিকের দাবি, প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল শুধুই ‘আইওয়াশ’। সংস্থার দৈনন্দিন কার্যকলাপ দেবরাজ চক্রবর্তীই তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে পরিচালনা করতেন।
সিট বর্তমানে সংস্থাটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আসা (‘ইনওয়ার্ড’) এবং বেরিয়ে যাওয়া (‘আউটওয়ার্ড’) অর্থ লেনদেন খতিয়ে দেখছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এমন একাধিক লেনদেনের হদিস মিলেছে যেখানে নির্দিষ্ট দিনে ও সময়ে ‘ডিসি গ্লোবাল’-এর অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা পড়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই সেই টাকা অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কোন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংস্থার অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে এবং পরে সেই অর্থ কোথায় পাঠানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, এই সংক্রান্ত তথ্য সিট ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর সঙ্গেও ভাগ করে নিচ্ছে। সম্প্রতি অর্থপাচারের অভিযোগে ইসিআইআর (এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট) দায়ের করে দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে সমান্তরাল তদন্ত শুরু করেছে ইডি।
এদিকে, রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর, দেবরাজ চক্রবর্তীর হয়ে তোলাবাজির টাকা সংগ্রহের কাজে যুক্ত ছিলেন বলে সন্দেহভাজন আরও প্রায় ৩০ জনও সিটের নজরদারিতে রয়েছেন।
তাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি ব্যক্তিদেরও জেরা করা হবে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে।
























