বেঙ্গালুরু, ৩ জুলাই (আইএএনএস): বেঙ্গালুরুর বহুল আলোচিত ডে-কেয়ার শিশু নির্যাতন মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত পরিচর্যাকারী বিজয়লক্ষ্মীকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শুক্রবার ২৯তম অতিরিক্ত প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট (এসিজেএম) আদালত এই নির্দেশ দেয়। পরে তাঁকে বেঙ্গালুরু কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে বিজয়লক্ষ্মীকে শিশুদের মারধর করতে দেখা যাওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে, এই মামলায় আরও এক অভিযুক্তকে আটক করেছে এইএএল থানার পুলিশ। তাঁর আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে। বাকি পলাতক অভিযুক্তদের ধরতে বিশেষ পুলিশ দল তল্লাশি চালাচ্ছে।
তদন্তকারীদের দাবি, ডে-কেয়ারের এক কর্মী সুজাতাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরই নির্যাতনের ঘটনা সামনে আসে। তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে সেখানকার তথ্য উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে।
এ পর্যন্ত ডে-কেয়ারের ৮ থেকে ১০ জন কর্মীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে থাকা তিন শিশুর অভিভাবকদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। ডিজিটাল প্রমাণ ও সাক্ষ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানার চেষ্টা চলছে।
কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে বলেন, শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। তিনি জানান, ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে এবং ডে-কেয়ার ও ক্রেশগুলিকে বাধ্যতামূলকভাবে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) মেনে চলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের নিয়োগের আগে যথাযথ ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করা উচিত ছিল। বিশেষ করে পাঁচ থেকে দশ বছরের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, ব্রুকফিল্ডে একটি বেসরকারি সংস্থার প্রাঙ্গণে পরিচালিত সোসাইটি জেনারেল বেবি কেয়ার সেন্টার-এ শিশুদের মারধরের অভিযোগ তুলে একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পরে সেই ভিডিও শিশু কল্যাণ কমিটির কাছেও পাঠানো হয়।
এই ঘটনায় মঞ্জুলা, বিজয়লক্ষ্মী, ভবানী, সিন্ধু এবং বিন্দু নামে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা শিশুদের মারধর, বাথরুমে আটকে রাখা, ভয় দেখানোর জন্য ওয়াশিং মেশিনের ভিতরে ঢুকিয়ে রাখা, জোর করে কমোডে বসানো এবং মুখে জলের পাইপ ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত।
এই ঘটনাকে “অত্যন্ত গুরুতর ও জঘন্য” বলে মন্তব্য করেছেন বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনার সীমান্ত কুমার সিং। তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।



















