জয়পুর, ৩ জুলাই (আইএএনএস): রাজস্থানের দৌসা জেলায় দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ বাস-ট্রেলার সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হওয়া ছয় যাত্রীর পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্তকরণের পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মৃতদেহগুলি পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দিয়েছে প্রশাসন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট আটজনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে ছয়জন বাসের আগুনে পুড়ে মারা যান এবং বাকি দু’জন সংঘর্ষে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে প্রাণ হারান।
ডিএনএ পরীক্ষায় যাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে তাঁরা হলেন মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের বজরং নগরের ভূমি ভাউর, বরওয়াহর প্রিয়াঙ্কা পাণ্ডে, খারগোন জেলার বরওয়াহর দীপক তনওয়ার, ইন্দোরের অন্নপূর্ণা নগরের নির্মলা গুপ্ত, সিধগঞ্জের রামপুরা কালানের দেবেন্দ্র সিং এবং স্লিপার বাসের চালক রাম অবতার।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম চারজনের ডিএনএ নমুনা বুধবার সন্ধ্যায় জয়পুরে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। রিপোর্টে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার তাঁদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে দেবেন্দ্র সিং এবং বাসচালক রাম অবতারের ডিএনএ নমুনা বৃহস্পতিবার সকালে পাঠানো হয়। পরীক্ষার রিপোর্টে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁদেরও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের হাতে দেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহত বাকি দু’জনের পরিচয় আগেই জানা গিয়েছিল। বাসের অপারেটর কুলদীপ মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মারা যান। এছাড়া মধ্যপ্রদেশের ঝাবুয়া জেলার ভূতেদি গ্রামের বাসিন্দা ধর্মসিংয়ের মৃতদেহ বুধবারই তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
গত ১ জুলাই গভীর রাতে দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে একটি স্লিপার বাসের সঙ্গে একটি ট্রেলারের সংঘর্ষের পর বাসটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। ঘটনায় আটজন নিহত এবং ২২ জন আহত হন। আহতদের দৌসা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আগুনে কয়েকটি মৃতদেহ এতটাই দগ্ধ হয়েছিল যে, চোখে দেখে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার পরই মৃতদেহগুলি পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেয় প্রশাসন।



















