পটনা, ১৭ আগস্ট (আইএএনএস): বিহার বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিলেন জন সুরাজের নেতা প্রশান্ত কিশোর। সোমবার বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে তাঁর শপথগ্রহণ সম্পন্ন হয়। বিধানসভার স্পিকার প্রেম কুমার তাঁর চেম্বারে প্রশান্ত কিশোরকে শপথবাক্য পাঠ করান।
শপথগ্রহণের পর বিধানসভার নির্বাচিত সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনসভা সংক্রান্ত কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন প্রশান্ত কিশোর। তিনি জন সুরাজ পার্টির একাধিক প্রবীণ নেতা ও সমর্থকদের সঙ্গে বিধানসভায় পৌঁছন।
বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৩০ জুলাই এবং ফল ঘোষণা হয় ৩ আগস্ট। নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহাকে ১৯,২৪৬ ভোটে পরাজিত করেন প্রশান্ত কিশোর। আরজেডি প্রার্থী তৃতীয় স্থানে ছিলেন এবং তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
বর্তমানে বিহার বিধানসভার অধিবেশন চলছে না। বর্ষাকালীন অধিবেশন ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং শীতকালীন অধিবেশন শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। সেই কারণে বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন সাধারণ শপথগ্রহণের পরিবর্তে স্পিকারের চেম্বারে পৃথকভাবে প্রশান্ত কিশোরকে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।
বাঁকিপুরে জয়ের পর প্রশান্ত কিশোর জানিয়েছিলেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই এলাকার বাসিন্দারা পরিবর্তন দেখতে পাবেন। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, রেশন ব্যবস্থা এবং সামাজিক নিরাপত্তাকে তিনি বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন।
তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। বাঁকিপুরের প্রায় ১০ হাজার তরুণ-তরুণীর জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি করতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি শিশুদের বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
রেশন কার্ড ব্যবস্থায় তিন মাসের মধ্যে উন্নতি আনার কথাও জানিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। এছাড়া ৬০ বছর ও তার বেশি বয়সি নাগরিকদের জন্য মাসে ১,১০০ টাকা পেনশনের প্রস্তাবও তাঁর ঘোষিত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে।
বাঁকিপুরের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি বিহারে জন সুরাজের সংগঠন আরও বিস্তারের পরিকল্পনাও শুরু করেছে। আসন্ন শিক্ষক ও স্নাতক কেন্দ্রিক বিধান পরিষদ নির্বাচন এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনটি প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
জন সুরাজের পরিধি আরও বাড়াতে প্রশান্ত কিশোর ফের রাজ্যজুড়ে সফর করতে পারেন বলেও জানা যাচ্ছে। সোমবারের শপথগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার থেকে সরাসরি আইনসভা ও নিজের বিধানসভা এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনিবেশ শুরু করলেন তিনি।
—আইএএনএস



















