ভোপাল, ৩০ জুন (আইএএনএস): পরিবারের বাড়িতে কর্মরত এক ব্যক্তীকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করলেন ক্রিকেটার শশাঙ্ক সিং। মঙ্গলবার তিনি দাবি করেন, অভিযোগকারী নিজেকে রাঁধুনি বলে পরিচয় দিলেও তিনি রান্নাই জানতেন না এবং তাঁর পরিবারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
একদিন আগেই অভিযোগের ভিত্তিতে রাতিবাদ থানার পুলিশ শশাঙ্ক সিং, তাঁর বাবা তথা মধ্যপ্রদেশ পুলিশের প্রাক্তন বিশেষ মহাপরিচালক (স্পেশাল ডিজি) শৈলেশ সিং এবং তাঁদের গাড়িচালকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে।
অভিযোগকারী বিপেন্দ্র সিং তোমরের দাবি, তিনি পরিবারের বাড়িতে কাজ করার সময় তাঁকে মারধর, গালিগালাজ করা হয় এবং তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।
এই অভিযোগ প্রসঙ্গে শশাঙ্ক সিং বলেন, “প্রথমেই জানাতে চাই, তিনি আমাদের বাড়ির রাঁধুনি ছিলেন না। নিজেকে রাঁধুনি বলে পরিচয় দিলেও রান্না করতে বলা হলে তিনি স্বীকার করেন যে রান্না জানেন না।”
তিনি আরও দাবি করেন, ওই ব্যক্তি বাড়ির বিভিন্ন ঘর এবং সাজসজ্জার ছবি ও ভিডিও তুলছিলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর মোবাইল ফোন পরীক্ষা করেন।
শশাঙ্কের কথায়, “তিনি বাড়ির ভিতরে ছবি ও ভিডিও তুলছিলেন। এতে ভবিষ্যতে চুরির মতো কোনও ঘটনার আশঙ্কা হয়েছিল। তাই আমরা তাঁকে সেই ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলতে বলেছিলাম।”
অভিযোগকারীর তিন দিন আটকে রাখা ও মারধরের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। তাঁর দাবি, “আমরা একটি সম্মানিত পরিবারের সদস্য। এমন কাজ করার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি যখন বাড়ি ছেড়ে যান, তখন তাঁর মোবাইল ফোনও সঙ্গে ছিল। বাইরে কোথাও তাঁর সঙ্গে কোনও ঘটনা ঘটলে তার জন্য আমি কীভাবে দায়ী হতে পারি?”
তিনি আরও বলেন, বাড়ির ভিতরে কোনও ধরনের গালিগালাজ বা শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। তাঁর মা কেবল বাড়ির ভিতরে ভিডিও করার জন্য ওই ব্যক্তিকে বকাঝকা করেছিলেন।
শশাঙ্কের দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে কেউ পরিকল্পিতভাবে তাঁদের পরিবারকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার অনিল শর্মা জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।
এফআইআর অনুযায়ী, রেওয়া জেলার বাসিন্দা বিপেন্দ্র সিং তোমর অভিযোগ করেছেন, ২৫ জুন তিনি মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতন, থাকা ও খাওয়ার প্রতিশ্রুতিতে শশাঙ্কদের নীলবাড় এলাকার বাড়িতে কাজে যোগ দেন।
তাঁর অভিযোগ, কাজের ত্রুটির কথা বলে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। ২৮ জুন ফোন ফেরত চাইলে শৈলেশ সিং, শশাঙ্ক সিং এবং তাঁদের গাড়িচালক তাঁকে মারধর ও গালিগালাজ করেন, বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং তাঁর মোবাইল থেকে থাকা-খাওয়ার খরচ বাবদ এক হাজার টাকা স্থানান্তর করে নেন।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে রাতিবাদ থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৬(বি), ১১৫(২) এবং ৩(৫) ধারায় তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। তদন্ত চলছে।



















