তিরুবনন্তপুরম, ১৪ আগস্ট (আইএএনএস): কেরলের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে লিওনেল মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, কার্যত এক আবেগের নাম। ২০২৫ সালে তৎকালীন পিনারাই বিজয়ন সরকারের উদ্যোগে কেরলে মেসি ও আর্জেন্টিনা দলের সম্ভাব্য সফর ঘিরে সেই আবেগ আরও তুঙ্গে উঠেছিল। কিন্তু বহুল প্রচারিত সেই অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত না হওয়ায় এখন বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কের কেন্দ্রে।
স্থানীয় পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ফুটবলপ্রেমী কেরলবাসীর আবেগকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। আর্জেন্টিনা-মেসিকে ঘিরে বড়সড় অনুষ্ঠান আয়োজনের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তৎকালীন বাম সরকার রাজ্যের লক্ষ লক্ষ ফুটবলপ্রেমীর প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছিল।
কিন্তু বহুল প্রতীক্ষিত সেই অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত হয়নি। তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী ভি. আবদুরাহিমানের পক্ষ থেকেও একাধিকবার মেসি ও আর্জেন্টিনা কেরলে আসবেন বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। ফলে অপেক্ষা বাড়তে থাকে সমর্থকদের। কিন্তু মেসির কেরল সফর আর বাস্তবায়িত হয়নি।
এখন সেই ঘটনাই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ভি.ডি. সতীশনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ক্রীড়া সচিবের তৈরি প্রাথমিক রিপোর্টে গোটা প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুতর ত্রুটির কথা উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছে, কোনও টেন্ডার ছাড়াই একটি বেসরকারি সংস্থাকে স্পনসর হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি অর্থ দফতর ও আইন দফতরের প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করা হয়েছিল কি না এবং কোনও বেসরকারি সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে সরকারি ক্ষমতা বা প্রশাসনিক পরিকাঠামো ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেসি-আর্জেন্টিনা প্রকল্পটি যখন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন ক্রীড়ামন্ত্রী থাকা ভি. আবদুরাহিমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। প্রয়োজনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের ভূমিকা নিয়েও পর্যালোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
যে প্রকল্পকে ঘিরে কেরলের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিপুল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত বাস্তব রূপ না পাওয়ায় এখন সেই উদ্যোগের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
মেসিকে ঘিরে রাজনৈতিক ফায়দা পাওয়ার যে প্রত্যাশা তৎকালীন বাম সরকারের ছিল বলে অভিযোগ, বাস্তবে তার ফলও প্রত্যাশামতো হয়নি। বরং মেসির বহু প্রতীক্ষিত আগমন না ঘটেই তাঁর নাম ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। ফুটবল মহাতারকাকে ঘিরে যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগে পরিণত হয়েছে।



















