কলকাতা, ২৪ জুন (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মমতা ব্যানার্জী এবং তাঁর ভাইপো তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী-অনুগত শিবির আরও কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। সদ্য গঠিত বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ বিজনেস অ্যাডভাইজরি (বিএ) কমিটিতে এই শিবিরের কোনও বিধায়ককে স্থান দেওয়া হয়নি।
বিধানসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক কমিটি হিসেবে বিবেচিত হয় বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি। প্রতিটি অধিবেশন শুরুর আগে এই কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের সময়সূচি, মেয়াদ, কোন কোন বিল উত্থাপিত হবে এবং অন্যান্য কার্যসূচি চূড়ান্ত করা হয়।
সহজভাবে বলতে গেলে, বিধানসভার কার্যক্রম পরিচালনায় এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আইএএনএস-এর হাতে থাকা নবগঠিত কমিটির তালিকা অনুযায়ী, মোট ১৯ জন ‘স্থায়ী সদস্য’ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন শাসক বিজেপির এবং পাঁচ জন বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি।
তবে বিরোধী শিবিরের পাঁচ জন সদস্যই তৃণমূলের তথাকথিত ‘বিদ্রোহী কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ’ গোষ্ঠীর প্রতিনিধি। এই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জী, যিনি বর্তমানে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নিজেও বিএ কমিটির স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন।
এছাড়া কমিটিতে ১০ জন ‘আমন্ত্রিত সদস্য’ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চার জন বিজেপি এবং দু’জন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি। তৃণমূলের আমন্ত্রিত সদস্যদের মধ্যে একজন রিতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ শিবিরের।
বর্তমান বিধানসভায় কংগ্রেসের দুই সদস্যের একজন মোহতাব শেখকেও আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সিপিআই(এম)-এর একমাত্র প্রতিনিধি, অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট (এআইএসএফ)-এর একমাত্র বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির একমাত্র প্রতিনিধিকেও আমন্ত্রিত সদস্য করা হয়েছে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধানসভার নথিতে ‘মূল কিন্তু সংখ্যালঘু’ এবং ‘বিদ্রোহী কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ’— উভয় গোষ্ঠীর বিধায়করাই এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছেন। ফলে প্রযুক্তিগতভাবে বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ খুবই সীমিত।



















