কলকাতা, ২২ জুন : ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য পশ্চিমবঙ্গের বাজেট প্রস্তাবে বেকারত্ব সমস্যার সমাধানে রাজ্য সরকারের ঘোষিত ত্রিমুখী কর্মসংস্থান কৌশলের প্রতিফলন ঘটেছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশের পর রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বেকারত্ব দূরীকরণে আমি দীর্ঘদিন ধরেই তিনটি বিষয়ে জোর দিয়ে আসছি। প্রথমত, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি। দ্বিতীয়ত, বড় বিনিয়োগ আকর্ষণ করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। তৃতীয়ত, ক্ষুদ্র ও অণু শিল্পকে উৎসাহিত করে স্বনিযুক্তির সুযোগ বাড়ানো। আজ বিধানসভায় পেশ হওয়া বাজেটে এই তিনটি বিষয়ই গুরুত্ব পেয়েছে।”
তিনি জানান, রাজ্য সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনুসৃত ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি)-র মডেল অনুসরণ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’-এর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সমস্ত ছাড়পত্র একক-জানালা (সিঙ্গল উইন্ডো) ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রদান করা হবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী উভয়েই জানান, রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ১৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৮ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসানের পথে প্রথম পদক্ষেপ মাত্র।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হল রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের ডিএ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। আমি বন্ধু হিসেবে কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের কাছে কিছুটা সময় চাইছি। নতুন অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিষয়টির সবদিক বুঝতে তাঁর কিছুটা সময় লাগবে।”
অন্যদিকে, বাজেট প্রস্তাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁর দল অন্ধভাবে বিরোধিতা করার পক্ষপাতী নয়। তবে ব্যবসা সহজীকরণের নামে যেন স্বজনপোষণমূলক পুঁজিবাদকে উৎসাহিত না করা হয়, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “একইসঙ্গে সংখ্যালঘুদের জন্য বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর সিদ্ধান্তেরও আমরা বিরোধিতা করছি। বাজেট আলোচনায় আমরা এর বিরুদ্ধে জোরালো লড়াই চালাব।”



















