নয়াদিল্লি, ২২ জুন : বাংলাদেশে ভারতবিরোধী আন্দোলন ও প্রচার জোরদার করতে জামায়াতে ইসলামী একাধিক নতুন সংগঠন গঠনে উৎসাহ দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলি। তাদের অভিযোগ, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করাই এই কৌশলের মূল লক্ষ্য।
একজন কর্মকর্তা জানান, জামায়াতে ইসলামী সরাসরি ভারতবিরোধী কর্মসূচির সামনে থাকতে চাইছে না। কারণ দলটি বর্তমানে বাংলাদেশের একটি “দায়িত্বশীল বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি” হিসেবে নিজেদের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে আগ্রহী। সেই কারণে বিভিন্ন সহযোগী ও ঘনিষ্ঠ সংগঠনের মাধ্যমে তারা এই ধরনের কার্যকলাপ পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ।
চলতি বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করে এবং তারেক রহমানের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র পর দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের মোট আসন সংখ্যা ৭৭।
সূত্রের দাবি, তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং অভিবাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও যোগাযোগ বজায় রয়েছে।
এক কর্মকর্তা বলেন, “মতভেদ থাকা সত্ত্বেও তারেক রহমান ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব বোঝেন। ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।”
তবে অভিযোগ, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা জামায়াতে ইসলামী ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের এই উন্নয়নকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। সরাসরি ভূমিকা না নিয়ে বিভিন্ন সহযোগী ও নতুন সংগঠনের মাধ্যমে তারা নিজেদের লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
গত ১৯ জুন ঢাকায় ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’ (বিএপি) নামে একটি অপেক্ষাকৃত নতুন সংগঠন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। সংগঠনটির দাবি ছিল, ভারতে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি।
বিক্ষোভকারীরা ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কুশপুতুলও দাহ করা হয়।
ভারতীয় সূত্রের দাবি, অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসনের বিষয়টি আইনানুগভাবেই মোকাবিলা করছে ভারত। কিন্তু জামায়াত এবং তাদের ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলি এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা দাবি করেন, “মূল উদ্দেশ্য অবৈধ অভিবাসনের প্রশ্ন নয়, বরং বিষয়টিকে মানবাধিকার সংকট হিসেবে তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা।”
সূত্রের অভিযোগ, বাংলাদেশ আজাদ পার্টি নিজেদের স্বাধীন রাজনৈতিক দল হিসেবে তুলে ধরলেও তাদের অধিকাংশ সদস্যের জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে সংগঠনটি ভারতবিরোধী কর্মসূচি পরিচালনার জন্যই গঠিত হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে।
এছাড়াও জামায়াত-সমর্থিত বা ঘনিষ্ঠ বলে বিবেচিত সংগঠনগুলির মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি), ইসলামিক আন্দোলন বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং নিজাম-ই-ইসলাম পার্টি।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পাকিস্তানের আইএসআই ভবিষ্যতেও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বজায় রাখার কৌশল এই প্রচেষ্টার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



















