আগরতলা, ২২ জুন : অসম-আগরতলা জাতীয় সড়ক এবং পিডব্লিউডি সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে আজ রাজ্য সচিবালয়ে রাজ্য সরকারের সচিব কিরণ গিত্তের সঙ্গে বৈঠক করল সিপিআই(এম)-এর পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, ব্যবসায়ীদের সমস্যা এবং দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত বিভিন্ন দাবি নিয়ে সরকারের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সিপিআই(এম)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মানিক দে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রাধাচরণ দেববর্মা এবং দলের নেতা মধুসূদন দাস, সুভাষ দে ও তপন দে।
বৈঠকে প্রতিনিধিদল জিরানিয়া মহকুমার চম্পকনগর বাজার এলাকায় অসম-আগরতলা সড়কের উপর প্রস্তাবিত উড়ালপুল নির্মাণের বর্তমান পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করে। তাদের অভিযোগ, বর্তমান নকশা বাস্তবায়িত হলে ঐতিহ্যবাহী চম্পকনগর বাজার কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে, যার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের মারাত্মক ক্ষতি হবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হবে।
মানিক দে বলেন, রাস্তার উন্নয়ন প্রয়োজন হলেও এমনভাবে কাজ করা উচিত যাতে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না হয়। তিনি বিকল্প হিসেবে বাইপাস রাস্তা নির্মাণ অথবা স্তম্ভের উপর উড়ালপুল তৈরির প্রস্তাব দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিকল্পনার বিরোধিতা করে এর আগেও চম্পকনগর বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা পথ অবরোধ ও বনধ কর্মসূচি পালন করেছিলেন।
বৈঠকে সাদুপাড়া থেকে চম্পকনগর পশ্চিম বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকায় পর্যাপ্ত নিকাশি ব্যবস্থার অভাবের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। রাধাচরণ দেববর্মা জানান, জল জমে থাকার কারণে কৃষক, সবজি চাষি, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দাসহ হাজার হাজার মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা ছয়টি স্থানে নিকাশি প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করা এবং রাস্তার দুই পাশে বড় আকারের ঢাকনাযুক্ত নালা নির্মাণের দাবি জানানো হয়।
এছাড়াও অসম-আগরতলা সড়কে যানজট সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে খয়েরপুর সিএনজি স্টেশন থেকে আইনাথ পর্যন্ত একটি উড়ালপুল নির্মাণের দাবি উত্থাপন করা হয়। মানিক দে জানান, পূর্ববর্তী বামফ্রন্ট সরকার এই প্রকল্পের প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠিয়েছিল। তিনি বর্তমান রাজ্য সরকারকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রতিনিধিদলের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবির গুরুত্ব স্বীকার করে সচিব কিরণ গিত্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।



















