নয়াদিল্লি, ২২ জুন (আইএএনএস): দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ২০২৬ আরও দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মহারাষ্ট্রের বাকি অংশ, বিশেষ করে মুম্বইয়ে পৌঁছানোর জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত আইএমডি-র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু ইতিমধ্যেই মধ্য আরব সাগরের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা, মহারাষ্ট্রের কিছু অংশ, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটকের অবশিষ্ট অঞ্চল, ছত্তিশগড়ের কিছু অংশ এবং ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও বিহারের আরও বিস্তৃত এলাকায় প্রবেশ করেছে।
বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর উত্তর সীমারেখা আলিবাগ, পুনে, নিজামাবাদ, দান্তেওয়াড়া, বালাঙ্গির, সুন্দরগড়, চাতরা এবং গয়ার উপর দিয়ে অতিক্রম করছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী দু’দিনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু মধ্য আরব সাগরের অবশিষ্ট অংশ, মুম্বই-সহ মহারাষ্ট্রের আরও বিস্তৃত এলাকা, তেলেঙ্গানা ও ওড়িশার বাকি অংশ এবং ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড ও বিহারের অতিরিক্ত অঞ্চলে অগ্রসর হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত, উপ-হিমালয় পশ্চিমবঙ্গের কিছু এলাকায় ২১ সেন্টিমিটারেরও বেশি অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। মেঘালয়ের কয়েকটি অঞ্চলে ১২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত খুব ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ওড়িশা, বিহার, ত্রিপুরা, মধ্য মহারাষ্ট্র, উপকূলীয় কর্ণাটক, তামিলনাড়ু এবং কেরলের বিভিন্ন এলাকায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হয়েছে।
দেশের একাধিক রাজ্যে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝোড়ো হাওয়া বইেছে, যার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৮১ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং বিদর্ভ অঞ্চলে এই পরিস্থিতি দেখা গেছে। হিমাচল প্রদেশ ও পাঞ্জাবের কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টির খবরও মিলেছে।
আইএমডি-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক সপ্তাহ উত্তর-পূর্ব ভারত এবং উপ-হিমালয় পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সোমবার মেঘালয়ের কিছু এলাকায় ২০ সেন্টিমিটারের বেশি অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
২৮ জুন পর্যন্ত অরুণাচল প্রদেশ, অসম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং উপ-হিমালয় পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ওড়িশা, বিহার, কোকণ-গোয়া এবং দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্যেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তবে মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি সত্ত্বেও বিদর্ভ, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ের কিছু অংশে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বিদর্ভ অঞ্চলের কিছু এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহেরও আশঙ্কা রয়েছে।
রবিবার উত্তরপ্রদেশ, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ এবং বিদর্ভের বিভিন্ন এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল। উত্তরপ্রদেশের বান্দায় সর্বোচ্চ ৪২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বিদর্ভ অঞ্চলে উষ্ণ রাতের পরিস্থিতিও বজায় রয়েছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা উল্লেখ করে আইএমডি সাধারণ মানুষকে পর্যাপ্ত জলপান, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।
আঞ্চলিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার জম্মু-কাশ্মীর-লাদাখ অঞ্চলে বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়াসহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্য ভারতে ছত্তিশগড়, বিদর্ভ এবং মধ্যপ্রদেশে বজ্রঝড়-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত এবং বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের কোকণ-গোয়া, কেরল এবং উপকূলীয় কর্ণাটকেও ভালো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
সমুদ্র উত্তাল থাকায় এবং প্রবল বাতাস বইতে পারে বলে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মৎস্যজীবীদের মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
আইএমডি আরও সতর্ক করেছে যে ভারী বৃষ্টির ফলে স্থানীয় স্তরে জলাবদ্ধতা, আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং ফসল ও পরিকাঠামোর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃষ্টিপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের দুর্বল কাঠামোর ঘরে না থাকার, নিকাশি ব্যবস্থা সচল রাখার এবং আলগা জিনিসপত্র নিরাপদে বেঁধে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাপপ্রবাহপ্রবণ এলাকায় কৃষকদের হালকা সেচ ও ছায়া জাল ব্যবহারেরও সুপারিশ করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের মতে, জুনের শেষের দিকে মৌসুমি বায়ুর আরও অগ্রগতির ফলে মধ্য ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে।
























