প্যারিস, ২২ জুন (আইএএনএস): বাংলাদেশে ইসলামপন্থী উগ্রপন্থীদের চাপের মুখে গাইবান্ধা জেলার একটি মন্দিরে ৮১ ফুট উঁচু ভগবান শ্রীরামের মূর্তি নির্মাণের কাজ স্থগিত হওয়ায় তীব্র উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ‘জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স’ (জেএমবিএফ)।
সংগঠনটির দাবি, গাইবান্ধা জেলার শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দিরে রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ইসলামপন্থী উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলির চাপ, সম্ভাব্য গণহিংসার আশঙ্কা এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে প্রকল্পটি স্থগিত করা হয়েছে।
জেএমবিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ঘটনা ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংগঠনের মতে, এই অধিকারগুলি বাংলাদেশের সংবিধান, মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র (ইউডিএইচআর) এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (আইসিসিপিআর)-এ সুরক্ষিত।
সংগঠনটির দাবি, চলতি জুন মাসের শুরুতে রামমূর্তি নির্মাণের পরিকল্পনার খবর প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় ইসলামপন্থী সংগঠনগুলি এবং কয়েকটি অন্যান্য গোষ্ঠী এর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিক্ষোভ, সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি শুরু করে। পরে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ১২ জুন মন্দির কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
জেএমবিএফ আরও অভিযোগ করেছে যে, বাংলাদেশের কয়েকটি মূলধারার সংবাদমাধ্যম ঘটনাটি সম্পর্কে সীমিত বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে।
সংগঠনটির বক্তব্য, “উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলির সম্ভাব্য সহিংসতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় কিছু সংবাদমাধ্যম আত্মনিয়ন্ত্রণ বা স্ব-নিয়ন্ত্রণের পথ বেছে নিয়েছে বলে জানা গেছে। এটি জনগণের তথ্য জানার অধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।”
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জেএমবিএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং মানবাধিকার আইনজীবী শাহানুর ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং সকল নাগরিকের সমান অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। পাশাপাশি মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারও করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান সরকারের আমলে এই প্রতিশ্রুতিগুলির অনেকটাই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামপন্থী উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলির উত্থান এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বৈষম্যের ঘটনা বৃদ্ধি গভীর উদ্বেগের বিষয়।”
জেএমবিএফ বাংলাদেশের সরকারের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যে কোনও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। “যখন কোনও রাষ্ট্র উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর ভয়ভীতি, সহিংসতার হুমকি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করে, তখন তা আইনের শাসন, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়,” বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।























