ওয়াশিংটন, ২২ জুন : ইরানের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগকে শুধু চার মাসের সংঘাতের অবসানের প্রচেষ্টা হিসেবে নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাসের সম্ভাব্য সূচনা হিসেবে তুলে ধরছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের মতে, এই আলোচনা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।
রবিবার সুইজারল্যান্ডে মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, এই আলোচনা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
ভ্যান্স বলেন, “প্রেসিডেন্ট আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে। যদি ইরানের নেতৃত্ব আঞ্চলিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং পারমাণবিক অস্ত্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও সেই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক মৌলিকভাবে পরিবর্তন করতে প্রস্তুত।”
মার্কিন প্রশাসনের বৃহত্তর লক্ষ্য সম্পর্কে রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের আঞ্চলিক ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
ওয়াল্টজ বলেন, “শান্তিকে একটি সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে যেভাবে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন, সেভাবেই হয়তো আমরা একটি নতুন মধ্যপ্রাচ্যের সূচনা দেখতে পারি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে আমেরিকার আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাঁর মতে, কয়েক বছর আগেও যা অকল্পনীয় ছিল, এখন তা বাস্তবে পরিণত হচ্ছে।
ওয়াল্টজ বলেন, “এক বছর আগেও কেউ ভাবতে পারেনি যে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী একে অপরের প্রতিরক্ষায় সামরিকভাবে সহযোগিতা করবে। কিন্তু আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের পরবর্তী ধাপ সেই বাস্তবতাই তৈরি করেছে।”
এদিকে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম-ও ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে বৃহত্তর আঞ্চলিক কৌশলের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই আব্রাহাম অ্যাকর্ডস আরও সম্প্রসারিত হবে।
গ্রাহাম বলেন, “আমরা সৌদি আরবকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যুক্ত করতে সক্ষম হব। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলির মধ্যে একটি হতে পারে।”
তাঁর মতে, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতা হলে বৃহত্তর আঞ্চলিক চুক্তির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পরিকল্পনার পথে একাধিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সমালোচকদের একাংশের দাবি, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকে তেহরানকে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চলবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কিছু মার্কিন আইনপ্রণেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরান পুনরায় সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বর্তমান আলোচনা কোনও চূড়ান্ত সমাধান নয়; বরং এটি একটি বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা মাত্র।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রথম মেয়াদে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তি-এর মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও বাহরিন-সহ একাধিক আরব দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।



















