সিওল, ২২ জুন : ইরান ও আমেরিকার মধ্যে গত সপ্তাহে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে অতিক্রম করেছে দক্ষিণ কোরিয়া পরিচালিত দুটি জাহাজ। সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সমুদ্র ও মৎস্য মন্ত্রক।
মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাহাজ দুটি বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে যাত্রা করছে এবং হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। তবে এখনও তারা পুরোপুরি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সামুদ্রিক এলাকা থেকে বেরিয়ে আসেনি।
সরকারি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, জাহাজ দুটিতে কোনও দক্ষিণ কোরীয় নাবিক ছিলেন না এবং সেগুলির গন্তব্যও দক্ষিণ কোরিয়া নয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজগুলির পরিচয় বা অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় তেহরান ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে কোনও ধরনের ফি না নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও স্বাভাবিক হওয়ার পথ সুগম হয়েছে।
দুটি জাহাজ প্রণালী ত্যাগ করায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালী এলাকায় অবস্থানরত দক্ষিণ কোরিয়া-সংযুক্ত জাহাজের সংখ্যা কমে ২২-এ দাঁড়িয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সমুদ্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে মোট ১৩৫ জন দক্ষিণ কোরীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ১০২ জন দক্ষিণ কোরিয়া পরিচালিত জাহাজে এবং ৩৩ জন বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সিওল। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশমন্ত্রী চো হিউন জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের পুনর্গঠন চাহিদা চিহ্নিত করতে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের পুনর্গঠন কার্যক্রমে দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ সহজতর করা এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই টাস্ক ফোর্স কাজ করছে। বিদেশে অবস্থিত আমাদের মিশনগুলির মাধ্যমে দেশভিত্তিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও চিহ্নিত করা হচ্ছে।”
চো হিউন আরও বলেন, সাম্প্রতিক সংকট মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ার ভূমিকা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির কাছে সিওলকে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে আমেরিকা ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে, যার লক্ষ্য ছিল কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটানো। এই চুক্তির ফলে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে এবং ওই সময়ের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।



















