প্যারিস, ১৮ জুন (আইএএনএস) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্বব্যাপী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উদ্ভাবক এবং স্টার্টআপগুলিকে ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রতিভার ভাণ্ডার, সাশ্রয়ী ডেটা পরিষেবা, কম খরচের সবুজ জ্বালানি এবং উদ্ভাবন ও প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক নীতিগত পরিবেশ ভারতের অন্যতম শক্তি।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইউরোপের বৃহত্তম প্রযুক্তি সম্মেলন ভিভাটেক ২০২৬-এর দশম সংস্করণে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর এবং বেসরকারি উদ্যোগের প্রতি সরকারের শক্তিশালী সমর্থনের ফলে ভারত প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা বিকাশের একটি বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যবসায়িক নেতা, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রযুক্তি অনুরাগীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে কাজ করুন এবং সবার জন্য উন্নয়ন নিশ্চিত করুন।
তিনি আরও বলেন, ভারত একটি উন্মুক্ত সমাজ এবং বিশ্বের বৃহত্তম প্রতিভার ভাণ্ডার। আমরা নিয়মকানুন আরও সহজ করছি এবং ব্যবসা পরিচালনার সুবিধা নিশ্চিত করছি। উদ্ভাবন থেকে বাণিজ্যিকীকরণ পর্যন্ত, ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনার মাধ্যমে আমরা বেসরকারি উদ্যোগকে সমর্থন করছি।
ভারতের প্রযুক্তিগত সাফল্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশটি একটি বিশ্বমানের ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো গড়ে তুলেছে, যা বৃহৎ পরিসরে মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনছে।
তিনি বলেন, গত এক দশকে ভারত প্রযুক্তিনির্ভর দ্রুত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রেই দেখুন, আমাদের ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই-এর কারণে বিশ্বের মোট রিয়েল-টাইম ডিজিটাল লেনদেনের অর্ধেক এখন ভারতে সম্পন্ন হয়। এখন ফ্রান্সেও, আইফেল টাওয়ার কিংবা প্যারিস বিমানবন্দরে ইউপিআই ব্যবহার করা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ডিজিলোকার এবং পিএম গতি শক্তি-এর মতো প্ল্যাটফর্মের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনের মাধ্যমে এই উদ্যোগগুলি পরিষেবার সহজলভ্যতা বাড়িয়েছে এবং অবকাঠামো পরিকল্পনাকে আরও কার্যকর করেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত বিশ্বাস করে প্রযুক্তি সবার জন্য সহজলভ্য হওয়া উচিত এবং উদ্ভাবনের সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছানো প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২১ সালে যখন আমি ভিভাটেক ২০২১-এ বক্তব্য রেখেছিলাম, তখন বিশ্ব কোবিড-১৯-এর অভিঘাতের মুখোমুখি ছিল। আজ বিশ্ব অন্য ধরনের নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তখন যেমন বলেছিলাম, আজও সেই বার্তাই পুনর্ব্যক্ত করছি যেখানে প্রচলিত পদ্ধতি ব্যর্থ হয়, সেখানে উদ্ভাবন পথ দেখাতে পারে।
এছাড়াও তিনি ভারতের দ্রুত বিকাশমান স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের কথা তুলে ধরে জানান, বর্তমানে দেশে ২ লক্ষেরও বেশি স্টার্টআপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।



















