বামুটিয়া, ১৯ জুন : টানা বর্ষণের জেরে বামুটিয়া বিধানসভার বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা ক্রমশই বেহাল হয়ে উঠেছে। কামালঘাট, নোয়াগাঁও, লেম্বুছড়া, কালাপানিয়া, গান্ধীগ্রাম, তেবাড়িয়া-সহ একাধিক গ্রাম ও বাগান এলাকার সড়ক বর্তমানে বড় বড় গর্ত, কাদা এবং জলাবদ্ধতায় কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাগুলির যথাযথ সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে জল জমে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে মূল সড়কের অস্তিত্ব পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দুই চাকার যানবাহন, অটোরিকশা, ছোট গাড়ি এমনকি জরুরি পরিষেবার যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিনিয়ত ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়েই চলেছে।
সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। শিক্ষার্থীদের কাদা ও জল মাড়িয়ে বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে, বাড়ছে পরিবহন খরচ। ব্যবসায়ীরাও পণ্য পরিবহণে সমস্যার কারণে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
এছাড়াও অসুস্থ ব্যক্তিদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুতর সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বর্ষাকালে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিশেষ করে পূর্ব বামুটিয়া পঞ্চায়েতের কালীবাজার থেকে নোয়াগাঁও যাওয়ার সড়কের রাজেন্দ্র সরকারের বাড়ি থেকে বাদল চন্দ্র দাসের বাড়ি হয়ে হরেন্দ্রনগর বাজার বস্তি পর্যন্ত বিস্তৃত অংশটির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত শোচনীয় বলে অভিযোগ। এলাকাবাসীর দাবি, ২০২৪ সাল থেকে মুখ্যমন্ত্রীর হেল্পলাইনে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তারা বামুটিয়ার প্রাক্তন বিধায়ক কৃষ্ণধন দাস, বামুটিয়া মণ্ডল সভাপতি শিবেন্দ্রচন্দ্র দাস, পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন দীপক কুমার সিনহা, জেলা পরিষদ সদস্য শিলা দাস সেন এবং বর্তমান বিধায়ক নয়ন সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে এলাকাবাসীর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলির পরিদর্শন ও সংস্কার কাজ শুরু করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের মতে, উন্নয়নের প্রকৃত প্রতিফলন তখনই সম্ভব যখন সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ পাবেন। তাই বর্ষার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে বামুটিয়া বিধানসভার নোয়াগাঁও, লেম্বুছড়া, কালাপানিয়া, কালীবাজার, তেবাড়িয়া-সহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার রাস্তাঘাট দ্রুত সংস্কারের দাবি ক্রমশ জোরালো হয়ে উঠছে।



















