আগরতলা, ১৭ জুন: পুনর্বাসন প্যাকেজসহ একাধিক দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ২৪ জুন থেকে আসাম-আগরতলা ৮ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং রেলপথে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ও ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের সংগঠন জেএআরসি এবং জেএসসি। সংগঠনগুলির এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন মহলে নতুন করে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সংগঠনগুলির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি সরকারের কাছে উত্থাপন করা হলেও এখনও পর্যন্ত সেগুলির বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও দাবি পূরণের ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
উল্লেখ্য, এর আগেও আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের দুটি সংগঠন রেলপথ অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। সেই সময় পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ত্রিপুরা সরকারের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি-দাওয়া নিয়ে ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।
তবে সরকারের সেই আশ্বাসের পরও বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলে এবার আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের আরও দুটি সংগঠন জেএআরসি এবং জেএসসি নতুন করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। তাদের দাবি, বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই তারা জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য, পুনর্বাসন প্যাকেজ, আর্থিক সহায়তা এবং আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। এসব দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে।
আগামী ২৪ জুন থেকে ঘোষিত এই অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কার্যকর হলে রাজ্যের সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক ত্রিপুরার অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। পাশাপাশি রেলপথও রাজ্যের যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে অবরোধের ফলে সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থায় ব্যাপক ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, একের পর এক আত্মসমর্পণকারী সংগঠনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্দোলনকারী সংগঠনগুলির সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সকলের নজর।



















